‘হীরার শহর’ সুরতের মেট্রোতেও হীরার ছোঁয়া, ভ্রমণে মিলবে অন্যরকম অভিজ্ঞতা

ভারতের গুজরাটের সুরত হীরা ব্যবসার জন্য বেশ পরিচিত। তবে পর্যটকদের কাছেও শহরটির রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। এবার সেই পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি নতুন সংযোজন হীরার নকশায় সাজানো মেট্রো। শহরের আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থাকে স্থানীয় পরিচয় ও স্থাপত্যের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সুরত মেট্রো। ফলে শহর ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য মেট্রো যাত্রাও হয়ে উঠতে পারে ভ্রমণের আকর্ষণীয় একটি অংশ।

ভারতের ‘হীরার শহর’ হিসাবে পরিচিত সুরতের মেট্রো ট্রেনের ভেতরের নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে হীরার বিভিন্ন দিক ও কাটের আদলে তৈরি জ্যামিতিক নকশা। কামরার ছাদেও রয়েছে হীরার বিভিন্ন কাটের অনুপ্রেরণায় তৈরি নকশা। লাল রঙের দরজা, বেইজ রঙের মেঝে ও রুপালি হাতলের সঙ্গে এই নকশা মিলে মেট্রোর ভেতরে তৈরি করেছে আধুনিক ও স্বতন্ত্র পরিবেশ।

সম্প্রতি গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ সুরত মেট্রোর এই বিশেষ নকশার ছবি শেয়ার করেছেন। ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, “সুরতের পরিচয় এবার তার ভবিষ্যতের সঙ্গেও এগিয়ে চলেছে।”

হর্ষ সাংঘভির বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ‘হীরার শহর’ হিসাবে পরিচিত সুরতের সেই পরিচয়কেই মেট্রোর নকশায় তুলে ধরা হয়েছে। ট্রেনের বিভিন্ন অংশ থেকে শুরু করে ছাদ, স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতেও হীরার আকৃতি, পৃষ্ঠ ও কাটের অনুপ্রেরণা ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে মেট্রোটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার মাধ্যমের পাশাপাশি সুরতের নিজস্ব পরিচয় জানারও একটি উপায় হয়ে উঠেছে।

হীরার আকৃতির মেট্রো স্টেশন

সুরত ভ্রমণে মেট্রোযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে ড্রিম সিটি মেট্রো স্টেশন। হীরার আকৃতির আদলে তৈরি করা হয়েছে স্টেশনটি। এটি অবস্থিত সুরতের বিখ্যাত ডায়মন্ড বোরসের কাছাকাছি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হীরা বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকার সঙ্গে মেট্রো স্টেশনের নকশার এমন মিল ভ্রমণকারীদের জন্য তৈরি করেছে আলাদা অভিজ্ঞতা।

মেট্রোর নকশায় হীরার ভাবনা শুধু চোখে পড়ার মতো সাজসজ্জায় সীমাবদ্ধ নয়। স্টেশন ও অন্যান্য অবকাঠামোতেও হীরার ঝলক, পৃষ্ঠ এবং কাটের আদলে বিভিন্ন নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক পরিচয়কে গণপরিবহনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

মাটির গভীরে স্টেশন, থাকছে না ওপরের বৈদ্যুতিক তার

সুরত মেট্রো প্রকল্পের প্রকৌশলগত পরিকল্পনাতেও রয়েছে কিছু বিশেষত্ব। মাসকাটি ও লাভেশ্বর স্টেশন প্রায় ১১০ ফুট মাটির নিচে নির্মাণ করা হচ্ছে। দুই স্তরে পরপর স্টেশন তৈরির বিশেষ নকশা ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানে।

মেট্রোর বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য থাকবে ৭৫০ ভোল্ট ডিসি থার্ড-রেল ব্যবস্থা। ফলে ট্রেন চলাচলের জন্য ওপরের দিকে আলাদা বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তারের প্রয়োজন হবে না। পর্যটকদের জন্য এর অর্থ হলো, শহরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার সময় আধুনিক ও তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা পাওয়া।

ভ্রমণের সঙ্গে পরিবেশের কথাও

সুরত মেট্রো প্রকল্পে পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। আদাজান এলাকায় প্রায় ৭০০ বছরের পুরোনো একটি গাছ রক্ষার জন্য মেট্রোর নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি ড্রিম সিটি ডিপো এলাকায় লাগানো হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি নতুন গাছ।

সুরত ঘুরতে গেলে শহরের হীরা ব্যবসা, ঐতিহাসিক স্থাপনা, খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি মেট্রোও ভ্রমণসূচিতে জায়গা করে নিতে পারে। বিশেষ করে হীরার নকশায় সাজানো ট্রেন ও হীরার আকৃতির স্টেশন শহরের আধুনিক পরিচয়ের সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্যের এক অভিনব দিক তুলে ধরছে। ‘হীরার শহর’ ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতায় তাই মেট্রোযাত্রাও হয়ে উঠতে পারে আলাদা এক আকর্ষণ।