এশিয়ার এই রিভার সাফারি যেন আমাজনের জঙ্গল

বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের কাছে আমাজন রেইনফরেস্ট এক চিরকালীন আকর্ষণের নাম। ঘন জঙ্গলের মধ্যে জাগুয়ার কিংবা অ্যালিগেটরের মতো প্রাণী দেখার সুযোগ সচরাচর মেলে না। তবে আমাজনে না গিয়েও যদি এশিয়ার কোনও নদীপথে সাফারি করতে গিয়ে আমাজন অববাহিকার মতো পরিবেশের স্বাদ পাওয়া যায়, তাহলে কেমন হবে সেই অভিজ্ঞতা?

এই সংরক্ষিত এলাকায় বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি উপভোগ করা যায় প্রকৃতির রূপ (ছবি: পেক্সেলস)

অবাক করার মতো বিষয় হলো, এমন অভিজ্ঞতার সুযোগ রয়েছে সিঙ্গাপুরেই। আধুনিক নগরজীবনের ব্যস্ততা, ঝলমলে অট্টালিকা আর কোলাহলের জন্য পরিচিত এই দ্বীপরাষ্ট্রে রয়েছে প্রকৃতির এক অনন্য ঠিকানা। মানদাই ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভ। শহরের কাছেই গড়ে ওঠা এই সংরক্ষিত এলাকায় বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি উপভোগ করা যায় প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ।

এই রিজার্ভের অন্যতম আকর্ষণ ‘রিভার ওয়ান্ডার্স’। এটি এশিয়ার প্রথম নদীকেন্দ্রিক বন্যপ্রাণী পার্ক। নদী ও জলজ পরিবেশের আদলে সাজানো এই পার্কে বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।

রয়েছে নদীপথে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ (ছবি: পেক্সেলস)

সিঙ্গাপুরে নদীপথে বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতা

রিভার ওয়ান্ডার্সে দেখা মিলতে পারে ভারতীয় ঘড়িয়াল, মেকংয়ের বিশালাকার ক্যাটফিশ এবং জায়ান্ট পান্ডার। এ ছাড়া পার্কের বিভিন্ন অংশে রয়েছে ফ্লেমিঙ্গো, জাগুয়ার ও ম্যাকাক বানরসহ নানা প্রজাতির প্রাণী। বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন নদী ও সেখানকার বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে এখানে।

নদী ও সেখানকার বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে জানার সুযোগও রয়েছে এখানে (ছবি: পেক্সেলস)

এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মাত্র ১০ মিনিটের একটি সাফারি পর্যটকদের জন্য হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এই পার্কে রয়েছে ‘অ্যামাজন রিভার কোয়েস্ট’ নামে একটি বোট রাইড। নৌকায় চড়ে পার্কের নির্দিষ্ট অংশ ঘুরে দেখার এই আয়োজন প্রকৃতির কাছাকাছি এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এনে দেয়।

এই বোট রাইডে চড়তে জনপ্রতি খরচ ৫ সিঙ্গাপুর ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৮৩ রুপি। তবে রিভার ওয়ান্ডার্সে প্রবেশের জন্য আলাদা টিকিট কিনতে হয়। পার্কটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে বলে জানানো হয়েছে। ভ্রমণের আগে অবশ্যই সময়সূচি ও টিকিটের মূল্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।

মিলবে সিংহ দেখার অভিজ্ঞতা (ছবি: পেক্সেলস)

নিজের পোস্টে এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর লিখেছেন, “ঘন সবুজ জঙ্গলের আবহ আর এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চ—যেন বুনো প্রকৃতির মাঝে এক অভিযাত্রা।”

সিঙ্গাপুরে বন্যপ্রাণী দেখার আরও আকর্ষণ

মানদাই ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভে নদীপথে সাফারির পাশাপাশি রয়েছে আরও নানা আকর্ষণ। ‘অ্যামাজন ফ্লাডেড ফরেস্ট কিপার গাইডেড ট্রেইল’, ‘অ্যামাজোনিয়া কিপার গাইডেড ট্রেইল’ এবং ‘রিভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড কিপার গাইডেড ট্রেইল’-এর মতো গাইডেড ট্যুরের মাধ্যমে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে আরও কাছ থেকে জানার সুযোগ মেলে।

এটি এশিয়ার প্রথম নদীকেন্দ্রিক বন্যপ্রাণী পার্ক (ছবি: পেক্সেলস)

এ ছাড়া রয়েছে রাতের সাফারি এবং পাখিদের জন্য নির্দিষ্ট অভয়ারণ্য। ফলে একই জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী দেখার পাশাপাশি প্রকৃতির বৈচিত্র্য উপভোগ করতে পারেন পর্যটকেরা।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, মানদাই ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভের এক দিনের পাসের মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১১৮ সিঙ্গাপুর ডলার এবং শিশুদের জন্য ৯০ সিঙ্গাপুর ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ আনুমানিক ১২ হাজার ৮০০ টাকা ও ৯ হাজার ৮০০ টাকা। তবে পাসে কোন কোন আকর্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা টিকিট কেনার আগে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর প্রতি আগ্রহ থাকলে সিঙ্গাপুর ভ্রমণের তালিকায় মানদাই ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভ রাখতে পারেন। আধুনিক শহরের মাঝেও সবুজ প্রকৃতি, নদীকেন্দ্রিক পরিবেশ এবং নানা প্রজাতির প্রাণী দেখার সুযোগের কারণে জায়গাটি হতে পারে ভ্রমণের জন্য সেরা।