উৎসবের মৌসুমে ভারতের বিভিন্ন রুটে বিমানভাড়া বাড়ছে। দিল্লি–হায়দরাবাদ রুটে একমুখী টিকিটের গড় ভাড়া বেড়েছে ৬৮ শতাংশ। মুম্বাই–কলকাতা রুটে বেড়েছে ৫১ শতাংশ, দিল্লি–গোয়া রুটে ৩৯ শতাংশ এবং মুম্বই–বেঙ্গালুরু রুটে ৩৭ শতাংশ। পাশাপাশি, জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ফুয়েল সারচার্জও বাড়িয়েছে।
এই খবর বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্যও প্রাসঙ্গিক হতে পারে, বিশেষ করে যারা ভারত হয়ে অন্য দেশে যাতায়াত করেন, কলকাতা বা দিল্লি থেকে সংযোগকারী ফ্লাইট ধরেন কিংবা উৎসবের ছুটিতে ভারতে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে ভাড়াবৃদ্ধির যে হার প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো ভারতের নির্দিষ্ট কয়েকটি রুটের জন্য। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বা ঢাকা থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ভাড়া একই হারে বাড়বে, এমনটা নয়।
কোন রুটে কতটা বাড়ছে ভাড়া?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি থেকে হায়দরাবাদ যাওয়ার টিকিটের দাম আগে ৮,০০০ ভারতীয় রুপি ছিল বলে ধরলে, ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধির পর তা দাঁড়ায় ১৩,৪৪০ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৬ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ, আগের তুলনায় বাড়তি খরচ প্রায় ৬ হাজার ৭০০ টাকা।
মুম্বই–কলকাতা রুটে আগের ভাড়া ৮,৫০০ রুপি ধরে ৫১ শতাংশ বৃদ্ধির পর নতুন ভাড়া দাঁড়ায় ১২,৮৩৫ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৫ হাজার ৮০০ টাকা। এই ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ প্রায় ৫ হাজার ৩০০ টাকা।
অন্য দিকে, দিল্লি–গোয়া রুটে আগে টিকিটের দাম ৭,০০০ রুপি ছিল ধরে ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধির পর ভাড়া দাঁড়ায় ৯,৭৩০ রুপি, অর্থাৎ আনুমানিক ১২ হাজার টাকা। আগের তুলনায় খরচ বাড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ টাকা।
এগুলো উদাহরণভিত্তিক হিসাব। প্রকৃত বিমানভাড়া যাত্রার তারিখ, বুকিংয়ের সময়, আসনপ্রাপ্যতা এবং বিমান সংস্থার শর্ত অনুযায়ী বদলাতে পারে।
ইন্ডিগোর ফুয়েল সারচার্জে পরিবর্তন
৬ অক্টোবর থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে দূরত্ব অনুযায়ী ফুয়েল সারচার্জ বাড়িয়েছে ইন্ডিগো। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রায় সারচার্জ ৩৭৫ রুপি, ৫০১ থেকে ১,০০০ কিলোমিটারে ৬০০ রুপি, ১,০০১ থেকে ১,৫০০ কিলোমিটারে ৯০০ রুপি, ১,৫০১ থেকে ২,০০০ কিলোমিটারে ১,১৫০ রুপি এবং ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ১,৩০০ রুপি।
বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অঙ্কগুলি আনুমানিক যথাক্রমে ৪৬০, ৭৪০, ১,১০০, ১,৪২০ ও ১,৬০০ টাকা। এই সারচার্জের নির্দিষ্ট প্রযোজ্যতা ও টিকিটে কীভাবে তা যোগ হবে, তা বুকিংয়ের সময় যাচাই করা প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক যাত্রীদের বাড়তি খরচ
বিদেশগামী ইন্ডিগো যাত্রীদের ক্ষেত্রেও গন্তব্য অনুযায়ী ফুয়েল সারচার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের সার্কভুক্ত দেশে ফ্লাইটে ৫০০ রুপি এবং ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ১,০০০ রুপি সারচার্জ ধার্য করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, জিসিসি-ভুক্ত দেশ এবং উত্তর ও পূর্ব এশিয়ার গন্তব্যে এই মাশুল ৫,৫০০ রুপি; আফ্রিকার ক্ষেত্রে ৬,০০০ রুপি এবং ইউরোপের ক্ষেত্রে ১০,০০০ রুপি।
বাংলাদেশি মুদ্রায় এগুলো আনুমানিক ৬২০, ১,২৩৫, ৬,৭৭৫, ৭,৪০০ ও ১২,৩২০ টাকা। তবে বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করা যাত্রীদের টিকিটে এই একই অঙ্ক প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের বুকিংয়ের শর্ত দেখতে হবে। সারচার্জের তালিকাটি ইন্ডিগোর প্রকাশিত নিয়ম ও নির্দিষ্ট রুটের ভিত্তিতে প্রযোজ্য হতে পারে।
কেন বাড়ছে বিমানভাড়া?
বিমান জ্বালানি বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (এটিএফ) মূল্যবৃদ্ধি বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন খরচ বাড়ানোর অন্যতম কারণ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে অভ্যন্তরীণ উড়ানের জন্য এটিএফের দাম জুনে প্রতি লিটার ১১৫ রুপি ছিল। জুলাইয়ে তা কমে ১১০ রুপি হলেও আগস্টে ফের ১১৫ রুপি হয়। ১ সেপ্টেম্বর দাম বেড়ে ১২১ রুপি এবং ১ অক্টোবর ১৩৭ রুপিতে পৌঁছয়।
এ দিকে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরীণ উড়ানের সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। তবে আসনসংখ্যা কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। উড়ানের সংখ্যা ও আসনপ্রাপ্যতার পরিবর্তনও উৎসবের মরসুমে টিকিটের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশি যাত্রীদের কী করা উচিত?
বাংলাদেশ থেকে যারা ভারত হয়ে অন্য দেশে যাবেন বা কলকাতা, দিল্লি কিংবা মুম্বাই থেকে সংযোগকারী ফ্লাইট ধরবেন, তাদের পুরো যাত্রার খরচ হিসাব করার সময় সম্ভাব্য সারচার্জ ও সংযোগকারী ফ্লাইটের ভাড়া বিবেচনায় রাখা উচিত। শুধু প্রথম টিকিটের দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চূড়ান্ত বুকিংয়ের অঙ্ক, লাগেজের নিয়ম এবং ফ্লাইটের সময়ের ব্যবধানও যাচাই করা জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভারতের নির্দিষ্ট রুটে ভাড়া বৃদ্ধির তথ্যকে বাংলাদেশের সব ফ্লাইটের ভাড়া বৃদ্ধির প্রমাণ হিসাবে দেখা যাবে না। বাংলাদেশ থেকে যাত্রার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও বুকিং প্ল্যাটফর্মে হালনাগাদ ভাড়া যাচাই করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।