রাবারগাছের ছায়ায় এক টুকরো প্রশান্তি, কোথায় যাবেন কীভাবে?

শহরের ব্যস্ততা আর কোলাহল থেকে দূরে কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে চান? তাহলে ঘুরে আসতে পারেন পীরগাছা রাবার বাগান। সারি সারি রাবারগাছ, সবুজের বিস্তার আর নিরিবিলি পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এমন স্থান হতে পারে এক দিনের ভ্রমণের আকর্ষণীয় জায়গা।

রাবার বাগানে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা অন্য রকম। এক সারি থেকে আরেক সারি পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা গাছপালা, চারপাশের সবুজ আর খোলা পরিবেশ মনকে সতেজ করে তুলতে পারে। যারা প্রকৃতির ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাদের জন্যও এমন পরিবেশ আকর্ষণীয়। তবে এটি বাণিজ্যিক রাবার উৎপাদনের এলাকা হলে গাছের পরিচর্যা ও রাবার সংগ্রহের কাজে বাধা না দেওয়াই উচিত।

পীরগাছা রাবার বাগান (ছবি: সংগৃহীত)

কোথায় এই রাবার বাগান?

পীরগাছা রাবার বাগান টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাগানটির জমির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার একর এবং রাবার উৎপাদন শুরু হয় ১৯৮৬ সালে। বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই বাগানে রয়েছে অসংখ্য রাবারগাছ।

কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে যেতে চাইলে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে মধুপুরগামী বাসে উঠতে পারেন। বাসভেদে ভাড়া আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। মধুপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে পীরগাছা রাবার বাগানের দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। সেখান থেকে স্থানীয় সিএনজি বা অটোরিকশায় যাওয়া যায়।

পীরগাছা রাবার বাগানে রাবার সংগ্রহ (ছবি: সংগৃহীত)

কত খরচ হতে পারে?

ঢাকা থেকে বাসে যাতায়াতের ভাড়া দুই দিক মিলিয়ে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা হতে পারে। এর সঙ্গে মধুপুর থেকে বাগানে যাওয়া-আসার গাড়িভাড়া, খাবার এবং অন্যান্য খরচ যোগ হবে। বাগানের ভেতর মোটর সাইকেলে ঘোরার জন্য জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হবে। তবে এসব ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে, তাই যাত্রার আগে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হয়ে নেবেন।

ভ্রমণে যা মনে রাখবেন

বাগানটি মূলত রাবার উৎপাদনের জন্য পরিচালিত হয়। তাই প্রবেশের অনুমতি, দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময় এবং বাগানের ভেতরে ঘোরার নিয়ম আগে জেনে নিন।

মধুপুরের পীরগাছা রাবার বাগান প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর একটি ভিন্নধর্মী স্থান। তবে রওনা হওয়ার আগে যাতায়াতের খরচ ও প্রবেশের নিয়ম যাচাই করে নিলে ভ্রমণ হবে আরও স্বস্তিদায়ক।