রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধে বিপাকে হাজারো যাত্রী, শাহজালালে অনিশ্চয়তায় ২৮ ফ্লাইট চলাচল

আকাশপথে যাত্রার পরিকল্পনা করেও শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে হাজারো যাত্রীকে। সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে যাদের জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ পর্যন্ত মোট ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে ৪ হাজার ৮৫১ জন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রার অপেক্ষায় আটকে পড়েছেন।

একের পর এক বাতিল ফ্লাইট

বেবিচকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, গত তিন দিন থেকে সংশ্লিষ্ট দিনটির সকাল পর্যন্ত ১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। পরে আরও ১৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সব মিলিয়ে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮টিতে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে দেশি ও বিদেশি একাধিক এয়ারলাইনস। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি, রিয়াদ এয়ারের তিনটি এবং ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ইন্ডিগোর বাতিল ফ্লাইটের মধ্যে ট্রানজিট ফ্লাইটও রয়েছে।

অপেক্ষা বাড়ছে যাত্রীদের

ফ্লাইট বাতিল হলে শুধু যাত্রার সময় পিছিয়ে যায় না, এর সঙ্গে বদলে যেতে পারে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা। কারও গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া থাকে, কারও থাকে পরিবারের কাছে ফেরার অপেক্ষা, আবার কারও যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কাজ বা জরুরি প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ অপেক্ষা যাত্রীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।

তবে ফ্লাইট বাতিল হওয়া মানেই সব যাত্রা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়নি। সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

কখন স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি?

বেবিচক জানিয়েছে, রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম এখনও চালু না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে কবে থেকে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়া জরুরি। ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি, টিকিট পরিবর্তন কিংবা বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা সম্পর্কে এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব।

আকাশপথে যাতায়াতের এই অনিশ্চয়তা কাটাতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষ থেকে যাত্রীদের দ্রুত হালনাগাদ তথ্য দেওয়া।