রিয়াদ রুটে অচলাবস্থা: চাপে দেশি-বিদেশি পাঁচ এয়ারলাইনস

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত একাধিক ফ্লাইটে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকেও যাত্রী ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ পর্যন্ত মোট ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ৪ হাজার ৮৫১ জন যাত্রী যাত্রার অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে দেশি-বিদেশি পাঁচটি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট রয়েছে।

কোন এয়ারলাইনসের কত ফ্লাইট বাতিল?

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি, রিয়াদ এয়ারের তিনটি এবং ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ইন্ডিগোর বাতিল ফ্লাইটের মধ্যে ট্রানজিট ফ্লাইটও রয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর জন্য যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, বুকিংয়ের অবস্থা জানানো এবং পরবর্তী যাত্রার সম্ভাব্য ব্যবস্থা সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কোন এয়ারলাইনস কীভাবে যাত্রীদের পুনরায় বুকিং বা অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যাত্রী ব্যবস্থাপনাই বড় চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হলে এর প্রভাব শুধু নির্দিষ্ট একটি যাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকে না। যাত্রীদের সংযোগকারী ফ্লাইট, হোটেল বুকিং, কর্মস্থলে যোগদানের সময় কিংবা পারিবারিক জরুরি পরিকল্পনাও ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে ট্রানজিট যাত্রীদের ক্ষেত্রে একটি ফ্লাইট বাতিলের কারণে পরবর্তী যাত্রার সময়সূচিও নতুন করে নির্ধারণ করতে হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিকল্প ফ্লাইট, টিকিট পুনর্নির্ধারণ কিংবা রিফান্ডের সুযোগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে টিকিটের শর্ত ও এয়ারলাইনসের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।

আর্থিক প্রভাব কতটা?

ফ্লাইট বাতিলের ফলে এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন পরিকল্পনা, উড়োজাহাজের ব্যবহার, ক্রু ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রীসেবা কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। একই সঙ্গে যাত্রীদের পুনরায় বুকিং, অর্থ ফেরত ও অন্যান্য সেবা দেওয়ার বিষয়টিও ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে এই পরিস্থিতিতে পাঁচটি এয়ারলাইনসের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত, তা নির্ধারণের মতো যাচাইকৃত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা

বেবিচক জানিয়েছে, রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রুটে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।

এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করা এবং এয়ারলাইনসের কাছ থেকে নতুন সময়সূচি জেনে নেওয়া জরুরি। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা ও যাত্রী ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তও বদলাতে পারে।