শহরের কোলাহল ছেড়ে শালবনের নিরিবিলিতে, গোপালপুরে ঘুরে আসুন একবার

সমুদ্রসৈকত কিংবা পাহাড়ের ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে পশ্চিম মেদিনীপুরের গোপালপুর হতে ঘুরে আসতে পারেন। কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয় এই ছোট্ট জনপদ। এখানে সমুদ্র নেই, তবে রয়েছে শাল-পিয়ালের বন, জলাশয়, জীববৈচিত্র্য উদ্যান, প্রাচীন মন্দির আর ইতিহাসের নানা স্মৃতি। নিরিবিলি পরিবেশে দু’দিন কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।

সবুজের মাঝে জীববৈচিত্র্য উদ্যান

পশ্চিম মেদিনীপুরের মুরাকাটার কাছে অবস্থিত গোপালপুরের অন্যতম আকর্ষণ বায়োডাইভার্সিটি পার্ক। কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। পার্কের ভেতরে সাজানো গাছপালা, পুকুর এবং আশপাশের শালবন প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কাড়তে পারে। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে সবুজের মধ্যে সময় কাটাতে চাইলে এই জায়গা ঘুরে দেখা যায়।

পার্ক ঘোরা শেষ হলে গাড়ি বা টোটো ভাড়া করে আশপাশের কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে যেতে পারেন। মুরাকাটার কাছে রয়েছে কুন্দ্রামাতার থান। এ ছাড়া দেখা যেতে পারে কংসাবতী নদীর জোড়া সেতু এবং জমিদার বাঁধ। নদী, জলাধার ও গাছপালায় ঘেরা পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে সেখানে। কাছেই লালগড়ের জঙ্গলও ঘুরে দেখতে পারেন।

কর্ণগড়ে ইতিহাসের খোঁজে

গোপালপুরে এক রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে বেরিয়ে পড়তে পারেন কর্ণগড়ের উদ্দেশে। গোপালপুর বায়োডাইভার্সিটি পার্ক থেকে জায়গাটির দূরত্ব প্রায় ২৩ কিলোমিটার। এখানে গেলে প্রকৃতির পাশাপাশি বাংলার ইতিহাস জানতে পারবেন।

এই অঞ্চল রানি শিরোমণির নেতৃত্বে চুয়াড় বিদ্রোহের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ১৭৯৮ সালে ব্রিটিশদের অত্যাচার ও জোর করে কর আদায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় চুয়াড় সম্প্রদায়ের মানুষ বিদ্রোহে শামিল হন। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রানি শিরোমণি। ব্রিটিশরা বিদ্রোহ দমন করার পর তাঁকে বন্দি করে। কর্ণগড় আজও সেই প্রতিরোধের ইতিহাস বহন করে চলেছে।

পরিখা দিয়ে ঘেরা গড়ের দক্ষিণ অংশে রয়েছে দণ্ডেশ্বর শিব ও দেবী মহামায়ার মন্দির। স্থানীয়দের কাছে এই মন্দিরগুলির ধর্মীয় গুরুত্বও রয়েছে। ইতিহাস ও স্থাপত্যের সংমিশ্রণ পাবেন এখানে।

মন্দিরের টানে পাথরা

ফেরার পথে ঘুরে নিতে পারেন মেদিনীপুরের কাছে অবস্থিত পাথরা। কংসাবতী নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই প্রাচীন জনপদ পরিচিত তার মন্দিরগুলির জন্য। মন্দিরের গায়ে টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। বাংলার প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহ্য কাছ থেকে দেখতে চাইলে পাথরা হতে পারে ভ্রমণের সুন্দর সমাপ্তি।

কোথায় থাকবেন?

গোপালপুর বায়োডাইভার্সিটি পার্কে থাকার জন্য রয়েছে কয়েকটি কটেজ। তিনটি কটেজে দু’জন করে এবং একটি কটেজে চারজন থাকতে পারেন। থাকা ও খাওয়াসহ মাথাপিছু দৈনিক খরচ আনুমানিক ১,৭০০ থেকে ২,০০০ টাকা। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘মৃত্তিকা’ এবং রাঙামাটি যুব আবাসেও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে কলকাতা এবং সেখান থেকে গাড়িতে গেলে কোলাঘাট পেরিয়ে ডেবরা টোল প্লাজা হয়ে কংসাবতী সেতু পার করে মেদিনীপুরের ট্রাফিক মোড়ের দিকে যেতে হবে। সেখান থেকে গান্ধী মোড় হয়ে গোপালপুর বায়োডাইভার্সিটি পার্কে পৌঁছনো যায়। মেদিনীপুর শহর থেকে পার্কটির দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার।

অল্প দিনের সড়ক সফরে প্রকৃতি, নদী, বন আর ইতিহাস সব কিছুর স্বাদ পেতে চাইলে পশ্চিম মেদিনীপুরের গোপালপুরকে রাখুন আপনার ভ্রমণ তালিকায়।