ওটিটি ও বড় পর্দার দৌলতে বাঙালি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে গোয়েন্দা চরিত্র একেনবাবু। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’। রহস্যের পাশাপাশি ছবিতে নজর কেড়েছে কেরালার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যও। সিনেমা দেখার পর একেনবাবুর শুটিং স্পট ঘুরে আসতে চাইলে পরিকল্পনায় রাখুন কোচি, মুন্নার ও আলাপ্পুঝা।
শুরু হোক কোচি থেকে
কেরালা ভ্রমণের প্রথম গন্তব্য হতে পারে কোচি। শহরটিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। ঐতিহাসিক এই বন্দর শহরে ঘুরে দেখতে পারেন ফোর্ট কোচি, ডাচ প্যালেস, ইহুদি সিনাগগ ও বিখ্যাত চাইনিজ় ফিশিং নেট। ইতিহাস ও স্থাপত্যের পাশাপাশি সমুদ্রের ধারের পরিবেশও উপভোগ করতে পারবেন।
হাতে বাড়তি সময় থাকলে ঘুরে আসুন আথিরাপল্লি জলপ্রপাত। সবুজ অরণ্যের মাঝে চালাকুডি নদীর জলধারা এই জায়গার প্রধান আকর্ষণ।
মুন্নারে চা-বাগানের হাতছানি
কোচি থেকে মুন্নার সড়কপথে প্রায় ১২৫–১৩০ কিলোমিটার। গাড়িতে যেতে চার-পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি লাগতে পারে। পাহাড়ি পথের দু’ধারে চা-বাগান, সবুজ উপত্যকা ও জলপ্রপাতের দৃশ্য সফরকে করে তুলবে মনোরম।
মুন্নার ঘুরে দেখতে অন্তত দু’দিন রাখুন। যেতে পারেন মাট্টুপেট্টি জলাধার, ইকো পয়েন্ট, কুন্ডলা হ্রদ ও পোথোমেডু ভিউ পয়েন্টে। সময় থাকলে ঘুরে দেখুন এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান, যেখানে নীলগিরি থারের দেখা মেলে। উদ্যানের প্রবেশের সময় ও টিকিটের নিয়ম আগে যাচাই করে নেওয়া ভাল।
আলাপ্পুঝায় ব্যাকওয়াটার ভ্রমণ
মুন্নার থেকে আলাপ্পুঝা সড়কপথে প্রায় ১৭০–১৮০ কিলোমিটার। জলপথ, নারকেল গাছের সারি ও সবুজ ধানখেতের জন্য পরিচিত এই শহরকে অনেকে ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ বলেন।
এখানে সরকারি জলযান বা অনুমোদিত নৌকায় ব্যাকওয়াটার ঘুরে দেখতে পারেন। আরও বিশেষ অভিজ্ঞতার জন্য ভাড়া করতে পারেন হাউসবোট। জলপথে ভাসতে ভাসতে কেরলের গ্রামীণ জীবন কাছ থেকে দেখার সুযোগ মিলবে। হাতে বাড়তি সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন কাছাকাছি সমুদ্রসৈকতেও।
কোথায় থাকবেন, কীভাবে যাবেন?
কোচি, মুন্নার ও আলাপ্পুঝায় বিভিন্ন বাজেটের হোটেল, রিসর্ট ও হোমস্টে রয়েছে। ছয় থেকে সাত দিনের সফরে তিনটি জায়গা ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করা যায়।
বাংলাদেশ থেকে কেরালা যাওয়ার আগে বিমানপথ, সংযোগকারী বিমান ও ভাড়ার তথ্য যাচাই করে নিন। ভারতীয় ভিসা, প্রবেশপথ ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সম্পর্কেও সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।
একেনবাবুর রহস্যের সূত্র ধরে কেরালা ঘুরতে গেলে সিনেমার শুটিং স্পটের পাশাপাশি উপভোগ করুন পাহাড়, চা-বাগান, জলপ্রপাত ও ব্যাকওয়াটারের অনন্য সৌন্দর্য।