একসময় খনির কাজে ব্যবহৃত হতো রেলপথটি। এখন সেই পথেই চড়ে পাহাড়ি অরণ্যের দৃশ্য দেখতে যান পর্যটকেরা। শুধু তাই নয়, সেখানে রয়েছে ৬০টিরও বেশি ডাইনোসরের মডেল নিয়ে তৈরি পার্ক। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের কাটুম্বায় অবস্থিত সিনিক ওয়ার্ল্ডে গেলে মিলবে এমন অভিজ্ঞতা। সিডনি থেকে এক দিনের সফরে ব্লু মাউন্টেনস ঘুরতে গেলেও এই জায়গায় ঢুঁ মারা যায়।
খাড়া রেলপথে রোমাঞ্চকর সফর
সিনিক রেলওয়ে বিশ্বের সবচেয়ে খাড়া যাত্রীবাহী রেলপথ হিসাবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছে। রেলপথটির ঢাল প্রায় ৫২ ডিগ্রি। প্রথমে হ্যামন পরিবার খনির কাজে ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করেছিল। প্রায় দেড়শো বছর পর সেই রেলপথই এখন পর্যটকদের নিয়ে যায় ব্লু মাউন্টেনসের দিকে।
ট্রেনে চড়ে পাহাড়ি পথে ওঠার সময় নিচে বিস্তৃত রেইনফরেস্টের দৃশ্য দেখা যায়। বৃষ্টির দিনে কুয়াশায় ঢেকে যায় চারপাশ। সবুজ অরণ্য আর পাহাড়ের এমন দৃশ্যের সঙ্গে খাড়া পথে ট্রেনযাত্রার রোমাঞ্চও উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকেরা।
কেবলওয়ে, স্কাইওয়ে ও অরণ্যের পথ
সিনিক ওয়ার্ল্ডে ট্রেনের পাশাপাশি রয়েছে কেবলওয়ে ও স্কাইওয়ে। সেখান থেকে দেখা যায় থ্রি সিস্টার্স পাহাড়ি শিলাগুচ্ছ, কাটুম্বা জলপ্রপাত, জামিসন ভ্যালি ও ব্লু মাউন্টেনসের বিস্তৃত দৃশ্য। এ ছাড়া উঁচুতে তৈরি হাঁটার পথ ধরে রেনফরেস্টের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রকৃতির মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায় ঘন গাছপালা ও অরণ্যের পরিবেশ।
ডাইনোসর ভ্যালিতে প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবী
সিনিক ওয়ার্ল্ডের ডাইনোসর ভ্যালি শিশুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। এই ইন্টার্যাকটিভ পার্কে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের প্রায় আসল আকারের মডেল রাখা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রজাতির ৬০টিরও বেশি ডাইনোসরের মডেল কাছ থেকে দেখা যায়। কনটেন্ট ক্রিয়েটর আয়াজের মতে, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এটি বেশ উপভোগ্য অভিজ্ঞতা।
ঘোরাঘুরির মাঝে খিদে পেলে রয়েছে ক্যাফে। সেখানে বার্গার, ফ্রায়েড চিকেনসহ নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। মেনুতে হালাল খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।
কখন যাবেন, কতক্ষণ লাগবে?
সিনিক ওয়ার্ল্ড প্রতিদিন খোলা থাকে। সপ্তাহান্তে ও সরকারি ছুটির দিনে খোলার সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা। অন্য দিনগুলিতে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বিভিন্ন রাইড সাধারণত প্রায় ১০ মিনিট অন্তর ছাড়ে।
পুরো এলাকা ঘুরে দেখতে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় হাতে রাখা ভালো। তবে আবহাওয়া, ভিড় ও রাইডের সময়সূচির কারণে সময়ের পরিবর্তন হতে পারে।
সিডনি থেকে ব্লু মাউন্টেনস ঘুরতে গেলে সিনিক ওয়ার্ল্ডে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে নিতে পারেন। খাড়া রেলপথে যাত্রা, পাহাড়ি অরণ্যের দৃশ্য আর ডাইনোসরের মডেল এক সফরে অভিজ্ঞতা হবে নানা রকম।