পিসার টাওয়ারের চেয়েও বেশি হেলে যে গির্জা

ইতালির পিসার হেলানো টাওয়ারের সামনে গিয়ে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা অনেক পর্যটকের কাছেই স্মরণীয়। কেউ ছবিতে টাওয়ারটিকে হাত দিয়ে ঠেলে সোজা করার ভঙ্গি করেন, কেউ আবার সেটিকে ধরে রাখার অভিনয় করেন। তবে এমন অভিজ্ঞতার জন্য ইতালিতে যাওয়াই একমাত্র উপায় নয়। গ্রিসের একটি পাহাড়ি গ্রামে রয়েছে এমন এক গির্জা, যা পিসার হেলানো টাওয়ারের চেয়েও বেশি কাত হয়ে আছে।

গ্রিসের থেসালি অঞ্চলের রোপোতো গ্রামে অবস্থিত ‘চার্চ অব দ্য অ্যাসাম্পশন অব মেরি’ নামের গির্জাটি হেলে আছে প্রায় ১৭ ডিগ্রি কোণে। অন্যদিকে, ইতালির পিসার হেলানো টাওয়ারের ঢালের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি। গির্জাটির অস্বাভাবিক অবস্থান দেখে বিস্মিত হন দর্শনার্থীরা। গ্রিসের ভ্রমণবিষয়ক আলোকচিত্রী স্তেফানোসের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটির ভেতরে ঢোকাও কতটা অস্বস্তিকর হতে পারে।

চার্চ অব দ্য অ্যাসাম্পশন অব মেরি (সংগৃহীত)

হেলে পড়া গির্জা দেখতে কেমন অভিজ্ঞতা

রোপোতো গ্রামের এই গির্জা সম্পর্কে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে নানা কথা। এভাবেই জায়গাটি পর্যটকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন আলোকচিত্রী স্তেফানোস। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, অদ্ভুত সব জায়গাও কীভাবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে, তা অবাক করার মতো।

গির্জাটির ভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা দিয়েছে। তবে দরজা খোলা থাকায় কেউ কেউ সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে প্রবেশের পর অনেকের মাথা ঘুরতে পারে, এমনকি ভারসাম্য ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

স্তেফানোসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চোখে চারপাশের দৃশ্য স্বাভাবিক মনে হলেও শরীর ভবনের ঢাল ও মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব অনুভব করে। চোখের দেখা এবং শরীরের অনুভূতির মধ্যে এই অমিল মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করতে পারে। এর ফলে মাথা ঘোরা কিংবা ভারসাম্য হারানোর মতো অনুভূতি তৈরি হয়।

গির্জাটি দেখার বিষয়ে আগ্রহীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই আলোকচিত্রী। বিশেষ করে যাদের সহজেই মাথা ঘোরে, তাদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ভবনটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।

ভয়াবহ ভূমিধসে বদলে যায় গ্রামের চিত্র

২০১২ সাল পর্যন্ত রোপোতো ছিল প্রায় ৩০০টি পরিবারের বসবাসের একটি শান্ত গ্রাম। কিন্তু ভয়াবহ এক ভূমিধসে গ্রামের বড় অংশ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে যায়। নিরাপত্তার কারণে বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়। পরে গ্রামটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।

ভূমিধসের আগে থেকেই এলাকার মাটি অস্থিতিশীল হওয়ার বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই বিপর্যয়ের সময় গির্জাটিও কাত হয়ে যায়। এরপর থেকে ভবনটি একই অবস্থায় রয়েছে। একসময় ধর্মীয় উপাসনার জন্য ব্যবহৃত এই স্থাপনাটি এখন এলাকার ইতিহাস ও ভূমিধসের পরিণতির স্মারক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আশপাশে আরও যেসব জায়গা ঘুরে দেখা যায়

রোপোতো ভ্রমণে গেলে আশপাশের কয়েকটি প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানও ঘুরে দেখতে পারেন পর্যটকেরা। এর মধ্যে রয়েছে প্যালিওকারিয়া জলপ্রপাত, পিলি এলাকার সেন্ট ভিসারিয়নের পাথরের সেতু, এলাতি গ্রাম এবং পোর্তা পানাগিয়া গির্জা। পাহাড়ি দৃশ্য, পাথরের পুরোনো স্থাপনা ও গ্রামীণ পরিবেশের কারণে এসব জায়গাও ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আগ্রহের।

তবে রোপোতোর হেলে পড়া গির্জাটি দেখতে যাওয়ার আগে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ভবনটিতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই বাইরে থেকে স্থাপনাটি দেখা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।