জলপ্রপাতের পাথর ভেজা থাকলে সাধারণত পিছলে পড়ার ভয় থাকে। কিন্তু থাইল্যান্ডে এমন একটি জলপ্রপাত রয়েছে, যেখানে পানির স্রোত বেয়ে পাথর ধরে অনায়াসে ওপরে ওঠেন পর্যটকেরা। অদ্ভুত এই বৈশিষ্ট্যের কারণে জলপ্রপাতটি পরিচিতি পেয়েছে ‘স্টিকি ওয়াটারফল’ নামে।
থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই প্রদেশে অবস্থিত বুয়া টং জলপ্রপাতের পাথরগুলো খসখসে। ফলে ওপর থেকে পানি গড়িয়ে পড়লেও পাথরের ওপর পা রেখে ওপরে ওঠা তুলনামূলক সহজ। সাধারণ জলপ্রপাতের মতো এখানে ভেজা পাথরে পা পিছলে যাওয়ার আশঙ্কাও কম।
ইনস্টাগ্রামের অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি পাথর ধরে না থেকেও জলপ্রপাত বেয়ে ওপরে উঠছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এই জলপ্রপাতের বিষয়টি মাথায় ঢোকে না। কারণ, এখানে সত্যিই ওপরে ওঠা যায়।” তাঁর কথায়, “পাথরের মেঝেটা যেন আঠালো। খসখসে এই পাথরে কিছু না ধরেও ওপরে ওঠা সম্ভব।”
জলপ্রপাতটির পাথরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের পেছনে রয়েছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট। খনিজসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক প্রস্রবণের পানি থেকে পাথরের গায়ে এই উপাদানের আস্তরণ তৈরি হয়েছে। এর ফলে পাথরের পৃষ্ঠে এমন একটি গঠন তৈরি হয়েছে, যা ভেজা অবস্থাতেও পা রাখার জন্য ভালো গ্রিপ দেয়। এ কারণে অনেক পর্যটক খালি পায়ে জলপ্রপাত বেয়ে ওপরে ওঠেন।
বুয়া টং জলপ্রপাতের চারটি ধাপ রয়েছে। কিছু অংশ বেশ খাড়া হলেও নিচ থেকে ধাপে ধাপে ওপরে ওঠা যায়। খাড়া অংশে ওঠার সুবিধার জন্য দড়িও লাগানো রয়েছে। পুরো পথ পাড়ি দিতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তি জানান, জলপ্রপাতটি ঘুরে দেখতে কোনো প্রবেশমূল্য দিতে হয় না। তবে পাথরের যেসব জায়গায় সবুজ শ্যাওলা জমেছে, সেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। এসব অংশ পিচ্ছিল হতে পারে এবং সেখানে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাঁর কথায়, “সত্যি বলতে, দেখলে মনে হয় এখানে পড়ে যাওয়ার কথা, অথচ তা হয় না।”
স্টিকি জলপ্রপাত কোথায়?
থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই প্রদেশের মে তায়েং জেলার মে হো ফ্রা এলাকায় অবস্থিত এই জলপ্রপাত। চিয়াং মাইয়ের পুরোনো শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। গাড়িতে যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে।
দিল্লি থেকে যেভাবে যাবেন
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিয়াং মাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার ফ্লাইট নিতে পারেন পর্যটকেরা। সাধারণত পথে অন্য বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করতে হয়। ব্যাংকক হতে পারে এমন একটি যাত্রাবিরতির জায়গা। চিয়াং মাই শহরে থাকার ব্যবস্থা করে সেখান থেকে এক দিনের ভ্রমণে জলপ্রপাতটি ঘুরে আসা যায়। শহর থেকে গাড়িতে যেতে একদিকে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।
খোলার সময় ও প্রবেশমূল্য
জলপ্রপাতের পার্ক সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রবেশের জন্য কোনো ফি লাগে না। সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে পৌঁছালে তুলনামূলক কম ভিড়ের মধ্যে ঘুরে দেখা যায়। এ সময় আবহাওয়াও কিছুটা শীতল থাকে।
কখন যাবেন?
চিয়াং মাইয়ে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া সাধারণত বাইরের পরিবেশে ঘোরাঘুরির জন্য আরামদায়ক থাকে। এ সময় স্টিকি জলপ্রপাত ঘুরে দেখা এবং পাথর বেয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন পর্যটকেরা।
জলপ্রপাতের পাথরে পা রেখে পানির স্রোতের বিপরীতে ওপরে ওঠার সুযোগই বুয়া টংকে অন্য জলপ্রপাতগুলোর চেয়ে আলাদা করেছে। প্রকৃতির এই ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য দেখতে চিয়াং মাই ভ্রমণের তালিকায় জায়গাটি রাখতে পারেন পর্যটকেরা।