ভারতের জনপ্রিয় পাহাড়ি শহর ধর্মশালার পরিচিতি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ম্যাচ ঘিরে গরমের মৌশুমে শহরটিতে ভিড় করেন ক্রিকেটার ও তাঁদের অনুরাগীরা। এখানকার স্টেডিয়ামে বিরাট কোহলি, প্রভসিমরন সিংয়ের মতো ক্রিকেটারদের দাপুটে ইনিংস দেখেছেন দর্শকেরা। তবে স্টেডিয়ামের উত্তেজনা আর শহরের কোলাহল থেকে দূরে ধর্মশালার আশপাশে এমন একটি ক্যাফে রয়েছে, যেখানে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে যান ভারতের একাধিক ক্রিকেটার। নীতীশ কুমার রেড্ডি ও যশস্বী জয়সওয়ালের মতো ক্রিকেটারদের আনাগোনা রয়েছে নেচার পুল ক্যাফেতে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা এই ক্যাফে তাঁদের কাছে অবসর কাটানোর এক পরিচিত জায়গা। পাহাড়, স্বচ্ছ জল আর শান্ত পরিবেশে এখানে কিছুটা সময় কাটালে ব্যস্ত জীবন থেকে বিরতি নেওয়ার সুযোগ মেলে।
পাহাড়ের কোলে নিরিবিলি ক্যাফে
ধর্মশালার কাছেই খানিয়ারা গ্রামে অবস্থিত নেচার পুল ক্যাফে। ছোট্ট এই পারিবারিক রেস্তোরাঁর পাশে রয়েছে স্বচ্ছ জলের একটি পুল। সন্ধ্যার সময় সেখানে আগুন জ্বালিয়ে তার চারপাশে বসে গল্পগুজব করার ব্যবস্থা রয়েছে। কাছাকাছি পাথরের গায়ে আঁকা নানা ছবি জায়গাটির পরিবেশে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
ক্যাফেতে খাবারের অর্ডার দিয়ে পুলের ধারে বসে জলে পা ডুবিয়ে বিশ্রাম নেওয়া যায়। খাবার তৈরি হওয়ার অপেক্ষাতেও চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। যারা হাঁটতে ভালোবাসেন, তারা আশপাশের পাহাড়ি পথে ট্রেকিংয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন। পথে দেখা মিলবে পাহাড়ঘেরা মনোরম দৃশ্যের।
কী কী খাবার পাওয়া যায়?
নেচার পুল ক্যাফেতে মোমো, স্থানীয় জলখাবার ও চায়ের মতো খাবার পাওয়া যায়। পাহাড়ি এলাকার ঠান্ডা আবহাওয়ায় গরম গরম ম্যাগি খাওয়ার অভিজ্ঞতাও নিতে পারেন। ক্যাফেটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
তবে বর্ষাকালে পুলে নামার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ সময় পানির স্তর বেড়ে যেতে পারে, ফলে সাঁতার কাটা বা জলে নামা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ক্যাফের আশপাশে কোথায় ঘুরবেন?
নেচার পুল ক্যাফেতে সময় কাটানোর পাশাপাশি কাছাকাছি কয়েকটি জায়গাও ঘুরে দেখা যায়। খারোটা উপত্যকা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। নিরিবিলিতে হাঁটাহাঁটি করা কিংবা পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য জায়গাটি উপযোগী। আশপাশে প্যারাগ্লাইডিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে যাঁরা একটু রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পছন্দ করেন, তারা এই সুযোগ নিতে পারেন।
পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকের পরিকল্পনা থাকলে ঘুরে আসতে পারেন জুহাল থেকেও। সেখানে প্রাকৃতিক পুকুর রয়েছে। ধর্মশালায় বেড়াতে গেলে স্টেডিয়াম কিংবা পরিচিত পর্যটনস্থল দেখার পাশাপাশি এই ধরনের শান্ত জায়গায় কিছুটা সময় কাটানোর পরিকল্পনাও রাখতে পারেন।
প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো, পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নেওয়া কিংবা ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেচার পুল ক্যাফে ভ্রমণসূচিতে এমন একটি বিরতি যোগ করতে পারে।