সেন্টমার্টিন খুলছে, পর্যটকদের দিতে হবে ফি: আরও নতুন যেসব নির্দেশনা

পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেন্টমার্টিন দ্বীপে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এই সময়ে পর্যটকদের নির্ধারিত ফি দিয়ে এই দ্বীপে যেতে হবে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের সই করা আদেশে বলা হয়, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটকরা যাওয়া আসা করতে পারবেন। এই সময়ে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। 

এর আগে গত ১২ অক্টোবর সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমনবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এই বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে নতুন সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিদ্যমান নির্দেশনা বহাল থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখেই পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দ্বীপের ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পর্যটন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে।

২০২৬-২৭ পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এসব বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার বিষয়টি সভায় আলোচনায় আসে। বিশেষ করে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থানের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা এবং জাহাজ ছাড়ার স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

গড় পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে, রাতযাপন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনের সব নির্দেশনা বহাল থাকবে।

২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। একই দিন তাদের ফিরে আসতে হবে; রাতযাপনের সুযোগ থাকবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতযাপন করা যাবে। তবে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবেন না। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকবে।

তবে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যাওয়ার অনুমতির সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে অফিস আদেশে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক যেতে পারবেন।

আর পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে রাতযাপন করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে অফিস আদেশে কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপন করা যাবে। সে অনুযায়ী নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হবে।

পর্যটকদের দিতে হবে ফি

অফিস আদেশে বলা হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি পর্যটক প্রতি ১০০ টাকা করে দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬ এর বিধি-২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

বিধি ২৬ এ ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় সমীক্ষা, গবেষণা, অনুসন্ধান, ইত্যাদি’ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ বা খনিজ সম্পদ বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান, সমীক্ষা বা গবেষণা পরিচালনা করিতে ইচ্ছুক হইলে তাহাকে অধিদফতরের অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কোনো অনুসন্ধান, সমীক্ষা বা গবেষণা পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিদফতর কর্তৃক নির্ধারিত ফি প্রদান করিতে হইবে।’

পর্যটকদের পরিবেশ সংরক্ষণের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে

১২ অক্টোবরের সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম পর্যটকদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভ্রমণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংবলিত টিকিট কিনতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে দেওয়া নির্দেশনাও অনুসরণ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী পর্যটকদের পলিথিন বহন না করা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার আহ্বান জানান।

সভায় আরও জানানো হয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল থাকবে। রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না। এ ছাড়া কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সৈকতে মোটরসাইকেলসহ অনুরূপ যানবাহন চালানোও নিষিদ্ধ থাকবে।