সোনায় মোড়া রাস্তা দিয়ে হাঁটার অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে? চারপাশে ঝলমলে সোনার গয়না, বিলাসবহুল সামগ্রীর দোকান আর চোখধাঁধানো সাজসজ্জা। এমনই এক অভিনব অভিজ্ঞতার আয়োজন করতে চলেছে দুবাই। শহরের ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণবাজার ডেরায় তৈরি হচ্ছে সোনার রাস্তা। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পর্যটকেরা সেখানে হাঁটার পাশাপাশি এক ছাদের নিচে দেখতে পাবেন নানা নকশার সোনার ও হিরের গয়না।
সোনার শহর ‘এল ডোরাডো’র কাহিনি এত দিন লোককথা ও কল্পনার জগতে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সোনার ব্যবসা ও বিলাসবহুল পর্যটনের জন্য পরিচিত দুবাই এবার সেই কল্পনার আবহকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চাইছে। শহরের ডেরা এলাকায় এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণবাজারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোনার বাজারেই নতুন আয়োজন
দুবাইয়ের আল-রাস এলাকায় অবস্থিত ডেরা গোল্ড সুক শহরের অন্যতম পরিচিত স্বর্ণবাজার। এখানে সারি সারি দোকানে পাওয়া যায় বিভিন্ন ক্যারাটের সোনা, রুপো, প্ল্যাটিনাম ও হিরের গয়না। সোনার অলঙ্কার থেকে শুরু করে বিলাসবহুল উপহারসামগ্রী। বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সন্ধানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ক্রেতা ও পর্যটকেরা আসেন এই এলাকায়।
এবার সেই পরিচিত বাজারের অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে ‘দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট’। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি রাস্তা সোনার আবহে সাজিয়ে তোলা হবে। সেখানে সোনার গয়না ও বিলাসবহুল সামগ্রীর প্রদর্শনীও থাকবে। ফলে কেনাকাটার পাশাপাশি পর্যটকেরা পাবেন ভিন্ন ধরনের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা।
কখন যেতে পারবেন পর্যটকেরা?
প্রকল্পটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে রাস্তাটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের বাণিজ্যিক বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক রশিদ আল হারমুদির বক্তব্য অনুযায়ী, জায়গাটি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খোলা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে সোনার গয়নার প্রদর্শনীর আয়োজনও থাকতে পারে।
কেন এই উদ্যোগ পর্যটকদের নজর কাড়তে পারে?
দুবাইয়ের স্বর্ণবাজার বহু দিন ধরেই গয়না কেনার জন্য পরিচিত। নতুন এই প্রকল্প চালু হলে বাজার ঘুরে দেখা, বিভিন্ন নকশার অলঙ্কার উপভোগ করা এবং কেনাকাটার অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে পর্যটকদের জন্য নতুন একটি সংযোজন হতে পারে। বিভিন্ন দেশের অলঙ্কার প্রস্তুতকারক ও ব্র্যান্ডের উপস্থিতিও বাজারটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলতে পারে।
সোনার রাস্তা ঘিরে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ডেরার ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণবাজারে যোগ হবে নতুন এক পর্যটন-অভিজ্ঞতা। সোনা কেনার পাশাপাশি ঝলমলে এই এলাকা ঘুরে দেখাও তখন দুবাই ভ্রমণের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে।