১৬ হাজার নারীর চুলে ভরা তুরস্কের অদ্ভুত জাদুঘর

ভ্রমণে গিয়ে স্মৃতি হিসেবে ছবি তোলা বা কোনও স্মারক কেনার চল আছে। তবে তুরস্কের ক্যাপাডোকিয়ায় এমন এক জাদুঘর রয়েছে, যেখানে স্মৃতি রেখে যেতে নারীরা রেখে যান নিজেদের চুলের গোছা। আভানোস শহরের ‘হেয়ার মিউজিয়াম’ বা চুলের জাদুঘরে ১৬ হাজারেরও বেশি নারীর চুলের সংগ্রহ রয়েছে। আরও মজার বিষয়, এখানে চুল রেখে গেলে লটারির মাধ্যমে জিতে নেওয়া যেতে পারে ক্যাপাডোকিয়ায় এক সপ্তাহের বিনা খরচের ছুটি।

যেভাবে শুরু হয়েছিল চুলের সংগ্রহ

এই ব্যতিক্রমী জাদুঘরের শুরু ১৯৭৯ সালে। মৃৎশিল্পী গালিপ কোরুকচুর কর্মশালায় এসেছিলেন এক ফরাসি নারী পর্যটক। তাঁর সুন্দর চুল দেখে গালিপ চুলের একটি গোছা চেয়ে বসেন। ওই নারী একটি কাগজে নিজের নাম ও ঠিকানা লিখে চুলের গোছাটি কর্মশালার দেয়ালে ঝুলিয়ে দেন।

২০২৪ সালে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গালিপ জানান, একটি চুলের গোছা থেকে যে এত বড় সংগ্রহ গড়ে উঠবে, তা তিনি ভাবেননি। পরে তাঁর কর্মশালায় আসা আরও অনেক নারী পর্যটক নিজেদের চুলের গোছা রেখে যেতে শুরু করেন। এভাবেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এই ব্যতিক্রমী সংগ্রহ। একসময় এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও জায়গা করে নেয় বলে জানা যায়।

দেয়ালজুড়ে হাজারো নারীর স্মৃতি

কনটেন্ট ক্রিয়েটর আকাঙ্ক্ষা মঙ্গার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাদুঘরের দেয়াল ও বিভিন্ন জায়গায় ঝুলছে নানা রঙের চুলের গোছা। সেগুলোর সঙ্গে লাগানো কাগজে লেখা রয়েছে নারীদের নাম ও যোগাযোগের তথ্য। প্রতিটি চুলের গোছার সঙ্গে যেন জড়িয়ে আছে কারও ভ্রমণের স্মৃতি, ব্যক্তিগত গল্প কিংবা গালিপের কর্মশালায় কাটানো কিছু মুহূর্ত।

চুল রেখে জেতা যায় বিনা খরচে ছুটি

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, জাদুঘরে ১৬ হাজারেরও বেশি নারীর চুলের গোছা রয়েছে। আকাঙ্ক্ষা মঙ্গার পোস্টের ক্যাপশন অনুসারে, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে নারীদের মৃৎশিল্পে উৎসাহিত করার ভাবনা। ওই অঞ্চলে মৃৎশিল্পকে মূলত পুরুষদের কাজ হিসেবে দেখা হতো। নারীদেরও এই শিল্প শেখার সুযোগ করে দিতে গালিপ চালু করেন বিনা খরচে ভ্রমণের ব্যবস্থা।

প্রতি বছর লটারির মাধ্যমে ১০ জন নারীকে বেছে নেওয়া হয়। তাঁরা ক্যাপাডোকিয়ায় এক সপ্তাহ ছুটি কাটানোর পাশাপাশি গালিপের কাছ থেকে মৃৎশিল্প শেখার সুযোগ পান।

এখনও জাদুঘরে গিয়ে চুলের গোছা রেখে এই লটারিতে অংশ নেওয়া যায়। আগ্রহীদের জন্য সেখানে কাগজ, কলম ও কাঁচির ব্যবস্থাও রয়েছে। নাম ও যোগাযোগের তথ্য লিখে চুলের গোছার সঙ্গে রেখে দিলেই অংশ নেওয়া যাবে লটারিতে।

চুলের গোছা দিয়ে স্মৃতি রেখে যাওয়া আর তার সূত্রে নতুন একটি শিল্প শেখার সুযোগের কারণে  ক্যাপাডোকিয়ার এই জাদুঘর ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।