বৈগাই এক্সপ্রেসের দাপট, সাড়ে ৫ ঘণ্টায় ৪৩০ কিমি পাড়ি!

নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে যাত্রা শুরু করেও গন্তব্যে পৌঁছালো ঠিক সময়েই। চেন্নাইয়ের কাছে চেঙ্গলপট্টু থেকে মাদুরাই পর্যন্ত ৪৩০ কিলোমিটার পথ মাত্র ৫ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে পাড়ি দিলো বৈগাই সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। সাধারণত এই পথ যেতে সময় লাগে ৭ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। অর্থাৎ, প্রায় দু’ঘণ্টা সময় বাঁচিয়ে নজর কেড়েছে দক্ষিণ রেলের এই ট্রেন। গত ২৪ অক্টোবরের এই যাত্রার খবর প্রকাশ করেছে ইটিভি ভারত।

যাত্রাপথের বেশির ভাগ অংশে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিতে ছুটেছে ট্রেনটি। এই গতি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের গতির সঙ্গে তুলনীয়। তবে যাত্রার শুরুতে দেরি এবং পথে একাধিক বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল বৈগাই এক্সপ্রেসকে। তা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোই ছিল এই যাত্রার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক।

২৪ অক্টোবর দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে চেন্নাই এগমোর স্টেশন থেকে ছাড়ে ট্রেনটি। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ১০ মিনিট দেরিতে যাত্রা শুরু হয়। এর পর কোডাম্বাক্কমের কাছে রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ এবং পথে বাধার কারণে প্রায় ২০ মিনিট দেরি হয়। তবে পরবর্তী পথে গতি বাড়িয়ে সেই সময়ের অনেকটাই পুষিয়ে নেয় ট্রেনটি। মাদুরাইয়ের কাছে নির্মাণকাজ চলায় সেখানে অবশ্য গতি কমাতে হয়েছিল।

নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করেন এবং ট্রেনের গতিবিধি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, এমন অরুণ পাণ্ডিয়ান ইটিভি ভারতকে জানান, বৈগাই এক্সপ্রেস দুপুর ২টা ২৫ মিনিট নাগাদ তাম্বারামে পৌঁছয় এবং ২টা ৩০ মিনিটে সেখান থেকে ছাড়ে। চেঙ্গলপট্টুতে পৌঁছায় প্রায় ২টা ৫৮ মিনিটে। সেখান থেকে ১০৩ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভিল্লুপুরম পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা ৪ মিনিট।

ভিল্লুপুরমে ট্রেনের চালক, সহকারী চালক ও ট্রেন ম্যানেজার বদল করা হয়। এরপর মাদুরাই ডিভিশনের কর্মীরা ট্রেনটির দায়িত্ব নেন। শেষ পর্যন্ত রাত ৮টা ৩৭ মিনিট নাগাদ মাদুরাই জংশনে পৌঁছয় বৈগাই এক্সপ্রেস। ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেনটি ঢোকে নির্ধারিত সময়েই। শুরুতে দেরি এবং পথে বাধা সত্ত্বেও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর ঘটনা ট্রেনটির গতি ও সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

অরুণ পাণ্ডিয়ান বৈগাই এক্সপ্রেসের গতির তুলনা করেছেন চেন্নাই-বিজয়ওয়াড়া রুটে চলা রাজধানী এক্সপ্রেস, করমণ্ডল এক্সপ্রেস এবং তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলির সঙ্গে।

তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও দেরিতে যাত্রা শুরু করে নির্ধারিত সময়ের আগেই গন্তব্যে পৌঁছেছে বৈগাই এক্সপ্রেস। ২০২২ সালের ৩ মার্চ মাদুরাই থেকে সকাল ৭টা ৫ মিনিটে ট্রেনটির ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সেটি ছাড়ে সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে, অর্থাৎ ২১ মিনিট দেরিতে। তা সত্ত্বেও চেন্নাই পৌঁছয় দুপুর ২টা ৭ মিনিটে। অথচ নির্ধারিত পৌঁছনোর সময় ছিল দুপুর ২টা ৩০ মিনিট।

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে বৈগাই এক্সপ্রেসের মাইলফলক

১৯৭৭ সালের ১৫ অগস্ট চেন্নাই ও মাদুরাইয়ের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য চালু হয়েছিল বৈগাই এক্সপ্রেস। এর পর থেকে ভারতীয় রেলের ইতিহাসে একাধিক মাইলফলক তৈরি করেছে ট্রেনটি। ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলা ভারতের প্রথম মিটারগেজ ট্রেন ছিল এটি। মিটারগেজ পরিষেবায় প্রথম প্যান্ট্রি কার বা খাবারের কামরা চালুর কৃতিত্বও বৈগাই এক্সপ্রেসের।

১৯৯৪ সালে মিটারগেজ ট্রেনে প্রথম ৪২ আসনবিশিষ্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা চালু করা হয় এই ট্রেনেই। পরে ২০১৯ সালে দক্ষিণ রেল বৈগাই ও পল্লবন এক্সপ্রেসে আধুনিক লিঙ্কে হফম্যান বুশ (এলএইচবি) কামরা চালু করে। দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও একাধিক উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের পাশাপাশি সাম্প্রতিক এই যাত্রাও বৈগাই এক্সপ্রেসকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।