সেন্টমার্টিন খুলছে ১ নভেম্বর, জাহাজ ৬ তারিখে- প্রথম ৫দিন কীভাবে যাবেন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতি বছরই সেন্টমার্টিনে ভিড় করেন পর্যটকেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি। তবে দ্বীপে পর্যটন শুরু হলেও প্রথম পাঁচ দিন চলবে না জাহাজ। জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা ৬ নভেম্বর থেকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই পাঁচ দিন পর্যটকেরা কীভাবে সেন্টমার্টিনে পৌঁছাবেন?

জানা যাচ্ছে, এই সময় পর্যটকদের দ্বীপে যাতায়াতের জন্য ভরসা করতে হবে ট্রলার কিংবা স্পিডবোটের ওপর। অর্থাৎ, ১ থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত যারা সেন্টমার্টিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের এই বিকল্প জলযানেই যাতায়াত করতে হবে। তবে ট্রলার বা স্পিডবোটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, সমুদ্রের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখানেই তৈরি হচ্ছে কিছু প্রশ্ন। যদি ট্রলার কিংবা স্পিডবোটে করেই পর্যটকেরা দ্বীপে যেতে পারেন, তা হলে জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? জাহাজে যাতায়াতে সময় তুলনামূলক বেশি লাগতে পারে, খরচও বেশি। তবু পর্যটকদের কাছে জাহাজের গুরুত্ব অন্য জায়গায়। সেটি হলো-নিরাপত্তা ও তুলনামূলক স্থিতিশীল যাত্রা। সমুদ্রপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বড় জাহাজ সাধারণত ট্রলার বা ছোট স্পিডবোটের তুলনায় বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক বলে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে সমুদ্র উত্তাল থাকলে ছোট নৌযানে যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তা হলে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পাঁচ দিন দেরি কেন? এর অন্যতম কারণ, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো এখনও পরিবেশ অধিদফতরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পায়নি। ছাড়পত্র ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরই ৬ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা। অর্থাৎ, দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খুলে গেলেও অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় শুরুতেই জাহাজ পরিষেবা চালু করা যাচ্ছে না।

সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে যাতায়াতের অনুমোদিত মাধ্যম, জাহাজ চলাচলের সময়সূচি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে প্রথম পাঁচ দিনে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ট্রলার বা স্পিডবোটে যাতায়াতের নিরাপত্তা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে রওনা হওয়া উচিত নয়।

সেন্টমার্টিনের দরজা খুলছে ১ নভেম্বর, কিন্তু জাহাজের অপেক্ষা করতে হবে আরও পাঁচ দিন। তাই দ্বীপে যাওয়ার আগে শুধু তারিখ নয়, যাত্রার মাধ্যম ও নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখুন।