ইউরোপের সমুদ্রতীরবর্তী শহর ও দ্বীপগুলোতে ছড়িয়ে আছে নানা বৈশিষ্ট্যের হোটেল। কোথাও সমুদ্রের সঙ্গে মিশে আছে পুরনো দিনের আভিজাত্য, কোথাও আবার আর্ট ডেকোর নান্দনিকতা। পাঠকদের পছন্দের এমন কয়েকটি হোটেলের তালিকায় উঠে এসেছে ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন ও কর্সিকার বিভিন্ন ঠিকানা।
সরেন্তাইন উপকূলে ভিসুভিয়াসের দৃশ্য
ইতালির সান্ত’আগ্নেলোর হোটেল ভিলা গার্ডেন সোরেন্তো শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৫ মিনিটের হাঁটা পথ। ছোট ও পারিবারিকভাবে পরিচালিত এই হোটেলটির বিশেষ আকর্ষণ ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির দৃশ্য। পাহাড়ের কিনারায় থাকা খাবারের টেরেস ও সুইমিং পুল থেকেও উপভোগ করা যায় এই দৃশ্য।
হোটেলটির সাজসজ্জা উজ্জ্বল ও আধুনিক। বিমানবন্দরের ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষার সময় অতিথিদের বিনা মূল্যে রোজে ওয়াইন পরিবেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
ফরাসি আটলান্টিক উপকূলে দ্বীপের হোটেল
ফ্রান্সের ইল দ্য রে দ্বীপের সাঁ-মার্তাঁ-দ্য-রে বন্দরে অবস্থিত হোটেল লা জেতে। ভোবাঁ দুর্গবেষ্টিত বন্দরের এক কোণে থাকা এই হোটেলে দুজনের থাকার খরচ সকালের নাশতাসহ শুরু প্রায় ৮৫ ইউরো থেকে।
হোটেলের উঠোনে রয়েছে নকশাদার আসবাব এবং ফুলে সাজানো বারান্দা। কক্ষগুলো উপকূলীয় আবহে সাজানো। বন্দরসংলগ্ন অবস্থানের কারণে আশপাশে রয়েছে সি-ফুড রেস্তোরাঁ ও বিখ্যাত আইসক্রিম বিক্রেতা লা মার্তিনিয়ের। দ্বীপ ঘুরে দেখার জন্য কাছেই সাইকেল ভাড়ার সুবিধা রয়েছে।
স্পেনের গ্যালিসিয়ায় সমুদ্রসৈকতের পাশে
সান্তিয়াগো দে কমপোস্তেলা থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণে সমুদ্রসৈকতের পাশে অবস্থিত হোটেল নানিন। দুজনের থাকার খরচ সকালের নাশতাসহ প্রায় ১০০ ইউরো থেকে।
হোটেলের কক্ষ থেকে দেখা যায় উপসাগর ও সুইমিং পুল। সানশেনশো শহরের কেন্দ্র হেঁটে যেতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিট। সেখানে রয়েছে আরও কয়েকটি সমুদ্রসৈকত, বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ব্যস্ত সমুদ্রতীরবর্তী প্রমেনাড।
অ্যাড্রিয়াটিক উপকূলে পাঁচতারা বিলাসিতা
ইতালির রিমিনির গ্র্যান্ড হোটেল পাঁচতারা মানের হলেও অ্যানেক্স ভবনের কক্ষে তুলনামূলক কম খরচে থাকা যায়। দুজনের থাকার খরচ সকালের নাশতাসহ শুরু প্রায় ১২০ ইউরো থেকে।
হোটেলে রয়েছে খোলা আকাশের নিচে সুইমিং পুল, পামগাছে ঘেরা বাগান এবং পুরনো ছবিতে সাজানো কাঠের প্যানেলের লাইব্রেরি। সকালের নাশতায় রিমিনির দৈনিক বাজার থেকে আনা তাজা ফল পরিবেশন করা হয়। কাছের সমুদ্রসৈকতে অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে সানলাউঞ্জার।
বিয়ারিত্জে পুরনো দিনের আবহ
ফ্রান্সের বিয়ারিত্জ শহরের হোটেল এদুয়ার্দ সপ্তম তিনতলা কাঠের ভবনে অবস্থিত। দুজনের থাকার খরচ সকালের নাশতাসহ শুরু প্রায় ১০৪ ইউরো থেকে।
হোটেলটির কাঠের প্যানেল, পুরনো কাঠের মেঝে ও নকশাদার আয়না এখনও অক্ষত রয়েছে। সমুদ্রের দিকে মুখ করা টেরেসে সকালের নাশতা উপভোগ করা যায়। হোটেল থেকে দীর্ঘ বালুকাবেলা ও সমুদ্রের দৃশ্যও দেখা যায়।
কর্সিকায় আর্ট ডেকোর হোটেল
ফ্রান্সের কর্সিকা দ্বীপের পিয়ানা শহরের কাছে রয়েছে হোটেল লে রশ রুজ। আজাক্সিও থেকে উপকূল ধরে গাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টার পথ। দুজনের থাকার খরচ সকালের নাশতাসহ শুরু প্রায় ১৭০ ইউরো থেকে।
১৯১২ সালে নির্মিত হোটেলটির স্থাপত্য ও সাজসজ্জায় রয়েছে আর্ট ডেকোর প্রভাব। দেয়ালে পুরনো ছবিও রয়েছে। তবে হোটেলটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রের দিকে মুখ করা টেরেস। সেখান থেকে গোলাপি গ্রানাইটে ঘেরা কর্সিকার উপকূল ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। হোটেলেই রয়েছে রেস্তোরাঁ।
দক্ষিণ টেনেরিফে আর্ট ডেকোরের ছোঁয়া
স্পেনের দক্ষিণ টেনেরিফের হোটেল রেভেরন প্লাজা ১৯২০-এর দশকের স্থাপত্য ও নকশা ধরে রেখেছে। সমুদ্রসৈকতের কাছেই অবস্থিত এই হোটেলে সেপ্টেম্বরে দুজনের থাকার খরচ সকালের নাশতাসহ প্রায় ১৮১ পাউন্ড থেকে।
হোটেলের ভেতরে রয়েছে পুরনো দিনের লোহার আসবাব, অ্যান্টিক টেলিফোন সুইচবোর্ড এবং শত বছরের পুরনো রঙিন কাচের জানালা। ছাদের সুইমিং পুল থেকে সমুদ্র ও আশপাশের পাহাড়ের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য দেখা যায়।
পুরনো দিনের স্থাপত্য, সমুদ্রসৈকতের কাছাকাছি অবস্থান এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী থাকার সুযোগ—এই বৈশিষ্ট্যগুলোই ইউরোপের সমুদ্রতীরবর্তী হোটেলগুলোকে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।