ঢাকার পাশেই মন ভালো করার ঠিকানা, একদিনেই ঘুরে আসুন এই জায়গাগুলো

 

 

ঢাকার ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি চান? হাতে ছুটি মাত্র এক দিন, কিন্তু দূরে যাওয়ার সুযোগ নেই? চিন্তার কিছু নেই। রাজধানীর আশপাশেই রয়েছে এমন বেশ কিছু জায়গা, যেখানে সকালে বেরিয়ে দিনভর ঘুরে সন্ধ্যার আগেই ফিরতে পারবেন।

ইতিহাস, নদী, সবুজ কিংবা নিরিবিলি পরিবেশ—আপনার পছন্দ যেটাই হোক, ঢাকার কাছেই রয়েছে বেশ কিছু দারুণ গন্তব্য।

পানাম নগর। ছবি: সংগৃহীত।

পানাম নগর: ইতিহাসের পথে হাঁটার সুযোগ

ঢাকার কাছাকাছি একদিনের ভ্রমণের তালিকায় পানাম নগর বেশ জনপ্রিয়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক নগরীতে পুরোনো স্থাপত্যের সারি এখনও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পানাম নগর সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এখানে ঘুরতে গেলে শুধু পুরোনো ভবন দেখেই ফিরে আসতে হবে না। কাছেই রয়েছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। একই দিনে দুই জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। আর সময় থাকলে মেঘনা নদীর পাড়েও কিছুটা সময় কাটানো যায়।

সোনারগাঁ জাদুঘর। ছবি: সংগৃহীত।

সোনারগাঁ: ইতিহাস আর লোকজ সংস্কৃতির মেলবন্ধন

পানাম নগরের সঙ্গে মিলিয়ে সোনারগাঁ ভ্রমণ করলে একদিনের সফর আরও জমে উঠতে পারে। সোনারগাঁ জাদুঘর ঘুরে দেখা যেতে পারে। লোকজ সংস্কৃতি, পুরোনো স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়।

পানাম নগর ও সোনারগাঁ একসঙ্গে ঘোরার সুবিধা হলো একটি ভ্রমণেই ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ পরিবেশের স্বাদ পাওয়া যায়।

জিন্দা পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

জিন্দা পার্ক: শহরের কোলাহল থেকে সবুজের ভেতর

যারা ইতিহাসের চেয়ে সবুজ আর শান্ত পরিবেশ বেশি পছন্দ করেন, তাদের জন্য নারায়ণগঞ্জের জিন্দা পার্ক হতে পারে ভালো বিকল্প। গাছপালা, খোলা জায়গা আর পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ—সব মিলিয়ে এটি দিনের ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় একটি গন্তব্য।

বিশেষ করে যারা শহরের কংক্রিটের ভিড় থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য বেরিয়ে একটু প্রকৃতির কাছে যেতে চান, তাদের জন্য জায়গাটি বেশ উপযোগী।

মেঘনার পাড়। ছবি: সংগৃহীত

মেঘনার পাড়: নদীর হাওয়ায় একটু স্বস্তি

ঢাকার আশপাশে ঘোরার তালিকায় মেঘনার পাড়ও রাখতে পারেন। পানাম নগর ঘুরে কাছাকাছি নদীর পাড়ে যাওয়া যায়। নদীর বিস্তৃত জলরাশি আর খোলা আকাশের নিচে কিছুটা সময় কাটালে শহুরে ব্যস্ততা থেকে মনটা যেন একটু হালকা হয়ে যায়।

বর্ষা বা শরতের সময়ে নদী ও আশপাশের প্রকৃতির রূপ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

উয়ারি-বটেশ্বর। ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর: ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য

একটু বেশি সময় হাতে থাকলে উয়ারী-বটেশ্বরও তালিকায় রাখা যায়। নরসিংদীর এই প্রত্নস্থল ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বে আগ্রহীদের জন্য আকর্ষণীয়। রাজধানী থেকে খুব দূরে না হওয়ায় দিনের সফর হিসেবেও পরিকল্পনা করা যায়।

এখানে ভ্রমণটা মূলত ছবি তোলা বা বিনোদনের চেয়ে ইতিহাসকে কাছ থেকে জানার অভিজ্ঞতা দেবে।

পূর্বাচল। ছবি: সংগৃহীত

পূর্বাচল আশপাশ: নিরিবিলি সময় কাটাতে

ঢাকার কাছাকাছি পূর্বাচল ও কালীগঞ্জের দিকেও রয়েছে বেশ কিছু রিসোর্ট ও অবকাশযাপনের জায়গা। যেমন পূর্বাচলের ছুটি রিসোর্ট ও অ্যারিস্টোক্র্যাট রিসোর্ট।

যারা দর্শনীয় স্থান ঘোরার বদলে একদিন শুধু আরাম করতে চান, তাদের জন্য এ ধরনের ডে-আউট স্পট সুবিধাজনক হতে পারে।

একদিনের ভ্রমণ, তবে পরিকল্পনা করে

ঢাকার কাছাকাছি হওয়ায় এসব জায়গায় একদিনে যাওয়া-আসা সম্ভব হলেও ছুটির দিন বা সাপ্তাহিক ছুটিতে রাস্তায় সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সকালে যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি বের হওয়া ভালো।

পানাম নগর ও সোনারগাঁয়ের মতো ঐতিহাসিক জায়গায় গেলে স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলা এবং পুরোনো স্থাপনায় হাত না দেওয়া জরুরি। আর নদীর পাড় বা খোলা জায়গায় গেলে আবহাওয়া ও নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

সবশেষে, ভ্রমণ মানেই যে অনেক দূরে যেতে হবে, তা নয়। কখনও কখনও ঢাকার পাশের কোনও পুরোনো নগর, নদীর পাড় কিংবা সবুজে ঘেরা একটি জায়গাই ব্যস্ত জীবন থেকে প্রয়োজনীয় ছোট্ট বিরতি এনে দিতে পারে।

তাই পরের ছুটিতে ব্যাগ গোছানোর আগে খুব দূরের গন্তব্য খোঁজার দরকার নেই। ঢাকার পাশেই হয়তো আপনার পরের সুন্দর ভ্রমণটি অপেক্ষা করছে।