আলাস্কার এই গুহা যেন তুষারের নিচে লুকিয়ে বরফের রাজপ্রাসাদ

বরফের তৈরি সুড়ঙ্গ, নীল-সবুজ বরফের দেয়াল আর চারপাশে সাদা বরফের রাজ্য, দৃশ্যটি দেখে মনে হতে পারে, বাস্তবের কোনও জায়গা নয়, যেন সিনেমার পর্দা থেকে উঠে আসা সুপারম্যানের ‘ফর্ট্রেস অব সলিটিউড’। তবে এটি কল্পনার কোনও জগৎ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় রয়েছে এমনই এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যার নাম ক্যাস্টনার হিমবাহের বরফগুহা।

আলাস্কার পূর্ব-মধ্যাঞ্চলে ব্যুরো অব ল্যান্ড ম্যানেজমেন্টের অধীন এলাকায় অবস্থিত ক্যাস্টনার হিমবাহ। ফেয়ারব্যাঙ্কস শহর থেকে জায়গাটির দূরত্ব প্রায় ১৪৪ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে। বরফে ঘেরা এই দুর্গম অঞ্চলে পৌঁছালে চারপাশের দৃশ্য মুহূর্তেই ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে।

গ্রীষ্মকালে তুষার গলার পানি ও উষ্ণ বাতাসের প্রভাবে হিমবাহের ভেতরের বরফের আকৃতি বদলে যায়। তখন বরফের দেয়ালে তৈরি হয় ঢেউখেলানো নানা নকশা। কোথাও বরফ স্বচ্ছ, কোথাও আবার নীল-সবুজ রঙের আভা ছড়িয়ে পড়ে। আলো-ছায়ার খেলায় পুরো গুহাটিকে মনে হয় বরফের তৈরি কোনও রাজপ্রাসাদ।

তবে এই সৌন্দর্য দেখতে গিয়ে ঝুঁকি নেওয়া একেবারেই ঠিক নয়। গ্রীষ্মকালে বরফগুহায় প্রবেশ নিরাপদ নয় বলে সতর্ক করা হয়। উষ্ণ আবহাওয়ায় বরফ গলতে থাকায় গুহার ভেতরের কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে এবং বরফ ধসে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।

তবে শীতকাল দুঃসাহসী অভিযাত্রীদের সামনে খুলে দেয় অন্য এক পথ। বরফে জমে যাওয়া ক্যাস্টনার ক্রিক ধরে প্রায় এক মাইল দীর্ঘ সমতল পথে হাঁটা যায়। বরফের ওপর দিয়ে একবার যেতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে। চারপাশের তুষারাবৃত নিস্তব্ধতা আর বরফের বিস্তীর্ণ প্রান্তর যেন অনন্য অভিজ্ঞতা।

তবে ক্যাস্টনার হিমবাহে ভ্রমণ সাধারণ পর্যটনকেন্দ্রে বেড়ানোর মতো সহজ নয়। সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই এবং শীতকালে তাপমাত্রা শূন্যের অনেক নিচে নেমে যেতে পারে। ফলে উপযুক্ত শীতকালীন পোশাক, বরফে হাঁটার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া সেখানে যাওয়া উচিত নয়।

দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে অভিজ্ঞ গাইডের সহায়তা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতির এই বরফময় বিস্ময় দূর থেকে যতটা মোহময়, কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ততটাই রোমাঞ্চকর। তবে সেই রোমাঞ্চ উপভোগ করতে হলে নিরাপত্তাকেই দিতে হবে সবার আগে।