নেটওয়ার্কে থেকেও অদৃশ্য! জনপ্রিয় হচ্ছে ‘উধাও ভ্রমণ’

ছুটি মানেই একটু স্বস্তি, কাজের চাপ থেকে মুক্তি, নিজের মতো করে সময় কাটানো। কিন্তু পাহাড়ের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যখন ঠিক তখনই মোবাইলে ঢুকে পড়ে অফিসের মেইল বা সহকর্মীর জরুরি বার্তা, তখন সেই ছুটির আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা যেন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। আর এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে এক নতুন ভ্রমণধারা ‘উধাও ভ্রমণ’।

নাম শুনে মনে হতে পারে, এটি হয়তো এমন কোনও সফর যেখানে মানুষ সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যায়। তবে বিষয়টি ঠিক তা নয়। বরং এটি এক ধরনের ভারসাম্যের ধারণা ইন্টারনেট থাকবে, তবে অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে না।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ছাড়া জীবন কল্পনা করা কঠিন। কয়েক দশক আগেও যেখানে ইন্টারনেট ছিল অনেকের কাছেই অপরিচিত, এখন সেখানে চা খাওয়ার বিল দেওয়া থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে অনলাইন পরিষেবা।

ভ্রমণের সময় ট্রেন বা বিমানের টিকিট কাটা, হোটেল বুকিং, গুগল ম্যাপ দেখে পথ খোঁজা, কাছাকাছি ভালো রেস্তোরাঁ বা ক্যাফের সন্ধান সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট অপরিহার্য। তাই একেবারে ডিজিটাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভ্রমণ করা অনেকের কাছেই বাস্তবসম্মত নয়।

তবে সমস্যা তৈরি হয় যখন সেই একই ইন্টারনেট অফিসের কাজের দরজা খুলে দেয়। ছুটির মধ্যেও মেইল, মিটিংয়ের বার্তা কিংবা কাজের আপডেট এসে ব্যক্তিগত সময়কে গ্রাস করে নেয়। তাই ‘উধাও ভ্রমণ’-এর ধারণা বলছে, ইন্টারনেট ব্যবহার হবে শুধুমাত্র ভ্রমণের প্রয়োজন মেটাতে, কাজের জন্য নয়।

অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় জায়গায় প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া, কিন্তু বাকি সময়ে নিজেকে ডিজিটাল ব্যস্ততা থেকে দূরে রাখা এই হলো নতুন প্রজন্মের ভ্রমণের নতুন দর্শন।

এই ভ্রমণধারা আসলে পুরোপুরি অফলাইন নয়, আবার সবসময় অনলাইনেও নয়। বরং এটি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কের একটি নতুন ভারসাম্য তৈরি করার চেষ্টা। যেখানে গুগল ম্যাপ পথ দেখাবে, অনলাইন বুকিং সহজ করবে, কিন্তু অফিসের চাপ ছুটির আনন্দ কেড়ে নিতে পারবে না।

নিজের জন্য সময় বের করা, প্রকৃতিকে অনুভব করা এবং কাজের জগতের বাইরে কিছুটা মানসিক প্রশান্তি খুঁজে নেওয়াই এখন অনেকের কাছে ভ্রমণের আসল উদ্দেশ্য হয়ে উঠছে।