গোয়েন্দারা জানান, গত ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১২ জনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোনও তথ্য না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৫ জনের সঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তাদেরকেও আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন গোয়েন্দারা। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর অনুসারী বলে স্বীকার করলেও তাদের কেউই আইএস সদস্য বলে স্বীকার করেননি। গোয়েন্দারাও তাদের আইএস সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাননি। তিন-চারজন ছাড়া অন্যরা নিরীহ বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিরও এখনও তদন্ত শেষ করতে পারেননি গোয়েন্দারা। তবে তদন্তের অগ্রগতি পুলিশ সদর দফতর ও আদালতকে অবহিত করে রাখা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
গত ২৯ এপ্রিল আরও পাঁচ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠায় সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন, মিজানুর রহমান ওরফে গালিব হাসান চৌধুরী (৩৮), রানা মিয়া ওরফে পাইলট (২৯), আলমগীর হোসেন (৩১), তানজিমুল ইসলাম (২৪) ও মাসুদ রানা ওরফে সন্টু খান (৩১)। তাদের প্রত্যেকেই ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কাজের অনুমতি নিয়ে সিঙ্গাপুরে যান। তাদের বিরুদ্ধেও আইএস সংশ্লিষ্টতা ও বাংলাদেশে গুপ্তহত্যা ও সন্ত্রাসী হামলা চালানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনে সিঙ্গাপুর পুলিশ। দেশে আসার পর এই পাঁচ বাংলাদেশিকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে গত ৩ মে সন্ত্রাস দমন আইনে রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চান গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনসুর আলী আরিফ। আদালত তাদের প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের নির্দেশে তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। রিমান্ডে নেওয়ার আজ পঞ্চম দিন অতিবাহিত হলেও তাদের কাছ থেকে আজ পর্যন্ত আইএস সংশ্লিষ্ট কোনও তথ্য পাননি বলে জানিয়েছেন তদন্তে সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ ফেরত পাঠানো পাঁচ বাংলাদেশির সঙ্গে আরও আট বাংলাদেশিকে আটক করে সিঙ্গাপুর পুলিশ। তারা এখনও সিঙ্গাপুর পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে জঙ্গি মতাদর্শ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। সেখানে গিয়ে কিছুটা উগ্র মতাদর্শের সঙ্গে উদ্ধুদ্ধ হন। তবে বাংলাদেশে বা সিঙ্গাপুরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর কোনও তথ্য এখনও তারা পাননি। তাদের কয়েকজনের কাছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর লেখা বই পাওয়া গেছে। তারা আনসারুল্লাহ’র মতাদর্শের অনুসারী হতে পারেন বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। গ্রেফতারকৃতদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা মুফতি রাহমানীর বক্তব্য শুনতে ও তার লেখা বই পড়তে পছন্দ করতেন।
এসব বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের (সিটি) প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে গত ২৯ এপ্রিল এই পাঁচজনকে ঢাকায় ফেরত পাঠায় সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ। তার ধারাবাহিকতায় পরে তাদের রাজধানীর বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরের অভিযোগ যাচাই-বাছাই চলছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিঙ্গাপুরে আটক অন্য আটজনের বিষয়েও তারা বাংলাদেশে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাননি।
/এএইচ/
আরও খবর পড়ুন-