গৃহকর্মী হত্যায় দম্পতির একদিনের রিমান্ড

ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমের ভিত্তিতে গ্রেফতার: পুলিশ

নির্যাতন করে গৃহকর্মী হাসিনা খাতুনকে (১১) হত্যা করে পলাতক দম্পতিকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে একদিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার রবিবার দুপুরে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভাড়াটিয়াদের যে তথ্য ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই ফরমে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাতে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার বরমী এলাকা থেকে গৃহকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম (৩৭) ও তার স্ত্রী ফারজানা লিজাকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। গৃহকর্মী হাসিনার মৃত্যুর পর থেকে তারা পলাতক ছিলেন।
বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘চার মাস আগে গৃহকর্মী হিসেবে নেত্রকোনা থেকে হাসিনা আক্তার নামে এক শিশুকে মোহাম্মদপুরে নিজ বাসায় নিয়ে আসেন শরীফ-লিজা দম্পতি। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে কারণে-অকারণে হাসিনাকে নির্যাতন করতেন। এমনকি বাবা-মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে দিতেন না।’
শারীরিকভাবে নির্যাতনে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে গৃহকর্তা শরীফুল ২০ মে রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঢামেকে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা এ সময় শরীফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শরীফুল তাদের জানান, রাস্তায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি হাসিনাকে ঢামেকে নিয়ে এসেছেন। পরে কৌশলে শরীফুল পালিয়ে যান।

ডিসি বিপ্লব আরও জানান, হাসপাতালে ভর্তির সময় মেয়েটির সারা শরীরে জখম দেখা গেছে। শরীফুল হাসিনার মাকে টাইফয়েডের কথা বলে ডেকে আনেন। খবর পেয়ে তিনি প্রথমে মোহাম্মদপুরের বাসায় আসেন। পরে ঢামেকে গিয়ে দেখেন মেয়ের সারা শরীরে ক্ষত চিহ্ন।

পরে হাসিনার মা সালমা বেগম মোহাম্মদপুর থানায় শরীফ-লিজা দম্পতির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ২৭ মে সকালে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহকর্মী হাসিনার মৃত্যু হলে নির্যাতনের পাশাপাশি হত্যার ধারাও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিপ্লব জানান, তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে শরীফ-লিজা দম্পতি পালিয়েছে। পরে মোহাম্মদপুর থানায় সংগ্রহ করা গৃহকর্তা শরীফুলের তথ্য ফরম বের করে মোবাইল নম্বর খোলা পাওয়া যায়। সেই নম্বরের সূত্র ধরে শনিবার মধ্য রাতে বরমী থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

শারীরিক লাঞ্ছনা বা ধর্ষণের কোনও আলামত পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে ডিসি বিপ্লব কুমার বলেন, ‘এখনো সেরকম কোনও তথ্য ডাক্তার আমাদের দেননি। তদন্ত করলে বিস্তারিত জানা যাবে।’

এদিকে দুপুরে ওই দম্পতিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তাদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, ২০ মে বিকেলে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে হাসিনাকে ভর্তি করান শরিফুল নিজেই। নিরুদ্দেশ হয়ে যান শরিফুল ও তার স্ত্রী। নিহতের শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন ছিল। এরপর গত ২৭ মে সকালে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসিনা মারা যান।

/এআরআর/এএইচ/আপ-এনএস/