সিনিয়র জেলসুপার জাহাঙ্গীর কবির জানান, আমরা এখনও গুছানোর কাজ করছি। বন্দিদের জিনিসপত্র পুরনো কারাগার থেকে এই কারাগারে আনা হচ্ছে। কারারক্ষীদের বাসস্থান ছোট হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারারক্ষীদের জন্য নির্মিত ব্যারাকটি ছোট হয়েছে। এখনও দুই শ’ থেকে আড়াই শ কারারক্ষীর থাকার ব্যবস্থা করতে পারিনি। তাদের থাকার ব্যবস্থা দ্রুত করতে হবে। এছাড়া কারারক্ষীরা বলেন, প্রধান ফটক দিয়ে বড় প্রিজনবাস ঢোকে না।
বর্তমানে কিশোর ওয়ার্ডটি হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে উল্লেখ করে সিনিয়র জেল সুপার বলেন, এখানে বন্দিদের চিকিৎসার জন্য কিশোর ওয়ার্ডটি হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। একটি দুই শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যেখানে কারারক্ষী ও বন্দিদের চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকবে।
নতুন কারাগারের নকশায় একটি স্কুল রয়েছে জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, কারারক্ষীদের সন্তানরা সবাই ঢাকার স্কুলগুলোতে এতদিন পড়েছে। আমাদের এখানে একটি স্কুল করার কথা রয়েছে। সেটিরও কাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, শনিবার নতুন কারাগারে থাকা কোনও বন্দিকে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। দ্রুত বন্দিদের সঙ্গে স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা সোমবার এই ব্যবস্থা চালু করব।
স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নির্মিত দোতালা ভবনে মাত্র ৪০ জন স্বজন একসঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এতেও অসন্তুষ্ট কারাকর্তৃপক্ষ। কারামহাপরিদর্শক বি. জে. সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন বলেন, দোতালা ভবনটি চারতলা করা হবে। যেন একসঙ্গে অন্তত ৮০ জন বন্দি স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারে।
পুরনো ঢাকার কারাগারটিতে কারাবেকারি, কেন্টিন থেকে প্রিজন কার্ড (পিসি) দিয়ে বন্দিরা খাবার তুলতে পারলেও কেরানীগঞ্জের কারাগারে তা পারছে না। কারামহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, একটি উন্নতমানের কেন্টিন কেরানীগঞ্জে করা হবে। যেন বন্দির স্বজনরা সেখান থেকে খাবার কিনতে পারেন।
এদিকে, সরেজমিনে কেরানীগঞ্জ গিয়ে দেখা গেছে, বন্দিরা সেলের ভেতরে হইহল্ল করছে। কেউ-কেউ গান করছে। কারাগারের সামনে থেকে কোনও মানুষ হেঁটে গেলে একগজ দূর থেকে তারা ডাকাডাকি করে। শনিবার দুপুরে চিৎকার করে বন্দিরা জানিয়েছিল, তারা না খেয়ে আছে। কিছু খায়নি। এ বিষয়ে কারাকর্তৃপক্ষ বলছে, তারা ব্যক্তিগত যে খাবার কিনে খায়, তা বন্ধ রয়েছে। নতুন অবস্থার কারণে তা করা হয়েছে। তবে দ্রুত পিসি কার্ড সচল করা হবে।
কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিবেশ বন্দিদের ভালো লেগেছে উল্লেখ করে সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির বলেন, এখানে তারা ভালোই আছে। পর্যাপ্ত আলোবাতাস রয়েছে। তারা গোসল করেছে। দুপুরের খাবারও খেয়েছে।
শুক্রবার ভোড় সাড়ে ৬টার দিকে একসঙ্গে পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড থেকে সাড়ে ছয় হাজার বন্দিকে কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত কারাগারে স্থানন্তর করা হয়। যদিও নতুন এই কারাগারের প্রজেক্টটি চলমান। এর কাজ এখনও বাকি রয়েছে। তবে নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে সেখানে কারাবন্দিদের স্থানান্তর করা হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: ঘটনাবহুল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ২শ’ বছর
/এমএনএইচ/