এর আগে গত ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা আছে, ষোড়শ সংশোধনী একটি ‘কালারেবল লেজিসলেশন’ যা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, আইন সভা থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নীতির লঙ্ঘন। কালারেবল লেজিসলেশন অর্থ কোনও কাজ সংবিধানের মধ্যে থেকে করার সুযোগ না থাকলে আইনসভা ছদ্মাবরণে কোনও একটা প্রয়োজনের যুক্তি দেখিয়ে আইন তৈরি করে। রায়ে আরও বলা হয়, রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট)। ষোড়শ সংশোধনী আইন-২০১৪ কালারেবল, এটি বাতিল এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হলো।
বৃহস্পতিবার ভিন্নমত পোষণ করা বিচারপতি ছাড়া অন্য দুই বিচারপতির রায় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
যদিও গত ২৫ এপ্রিল অসদাচারণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও তাকে অপসারণের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিচারক (তদন্ত) আইন’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
এই রায়ের বিপরীতে আপিল হবে কিনা প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আজ দু’জন বিচারপতির রায় প্রকাশিত হয়েছে। বাকি এক বিচারপতি যিনি ভিন্নমত প্রকাশ করেছিলেন, তার রায় প্রকাশিত হলে একসঙ্গে দেখে এই রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ৯ আইনজীবী হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করেন।
এ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর এ সংশোধনী কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। গত বছরের ২১ মে রুলের শুনানি শুরু হয়।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এছাড়া অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শুনানি করেছেন শীর্ষ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসি।
/ইউআই/এমএনএইচ/