বুধবার ডিএমপির সদর দফতরে ৪৯ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জোনাল সহকারী কমিশনার (এসি) ও বিভাগীয় উপকমিশনারদের (ডিসি) সঙ্গে অপরাধ বিষয়ক মাসিক সভায় এই নির্দেশনা দেন।
মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এখন থেকে মামলা গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং তদন্তের সব তথ্য ডিজিটাল ফরম্যাটে কম্পিউটারের মাধ্যমে করতে হবে। আমরা অক্টোবরের মধ্যে এই কাজ শুরু করতে চাই। এজন্য তদন্তের সঙ্গে সংযুক্ত সব থানার পুলিশ কর্মকর্তাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’
কমিশনার পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম ডিজিটাইজড করতে হবে। এতে কাজের গতিশীলতা ও গোপনীয়তা থাকবে। স্বচ্ছতাও থাকবে। অপরাধীদের বিষয়ে যেকোনও যায়গায় বসে তথ্য পাওয়া যাবে।’
সভায় উপস্থিত একজন উপকমিশনার বলেন, ‘প্রতিটি মামলার পাঁচটি কপি হয়। এসব কপি কার্বনের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হত। এতে অস্পষ্টতা থাকে। পরবর্তী সময়ে লেখা বুঝতেও কষ্ট হয়। তাছাড়া সবার হাতের লেখাও অনেক সময় বুঝা যায় না। তাই কম্পিউটারে তথ্য লিপিবদ্ধ করলে সবার ক্ষেত্রে সমান হবে।’ তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিডি’তে (কেইস ডায়েরি) প্রতিদিন মালার অগ্রগতির বিষয় লিখেন।
তদন্ত কর্মকর্তা একাধিকবার পরিবর্তন হলেও তারাও ওই সিডি’তে লিখেন। তাদের হাতের লেখার ভিন্নতা থাকে। এসব ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। এছাড়া কেইস ডকেটটি নষ্ট বা ছিঁড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে যদি সিডিএমএস সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়, তাহলে এই ঝুঁকি থাকবে না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনও মামলায় কোনও অভিযুক্তর বিষয়ে চার্জশিট দাখিল হলে, সন্দেহভাজন কারও নাম থাকলে তাদের বিষয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই সিডিএমএস’র মাধ্যমে জানতে পারবেন। তদন্ত কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা থাকবে।’
এবিষয়ে ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এফআইআর (ফাস্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) একটি ফরম্যাট রয়েছে। সিডিএমএস আমাদের সফটওয়্যারও রয়েছে। এখন থেকে তদন্তের বিষয়গুলো কম্পিউটারাইজড করার নির্দেশনা দিয়েছেন কমিশনার। এতে তদন্তের বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা আসবে।’
/এমএনএইচ/