এই পাঁচজনই যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বাবু হত্যাকাণ্ডের পরদিন সাগরকে বাবুদের বাসায় দেখা গেছে। লাশ দাফন, জানাজা নিয়েও বাবুর বাবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। এদের পাঁচজনের গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে এজিবি কলোনির একটি ভবনের (১৭-বি) সামনে বাবু ও তার বন্ধু আহসানুল হক ইমনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এরমধ্যে বাবুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাবুর বাবা আবুল কালাম। মামলার আসামিরা হলেন, হিরক (৩০), মিলন (৩১), সানী (৩০), আমিনুল (৩১), রাজা (৩০) ও আলম (৩০)। এদের মধ্যে মিলন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক। অন্যরাও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আবু তাহের ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূলত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমরা সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে সাগর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি। অপর চারজন হলেন, শেখ আবু মাহামুদ ওরফে তাপস (৩৫), তাহযীব আহম্মেদ শাবাব (২৯), মো. নাসির উদ্দিন (৩৩) ও আসিফ মোশাররফ অন্তু (২৪)।’ তিনি বলেন, ‘সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘সাগরের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় হত্যা মামলাসহ আরও ছয়টি মামলা আছে। সাগরের সঙ্গে একসময় বাবুর বিরোধ ছিল। পরবর্তী সময়ে তারা আবার এক গ্রুপে রাজনীতি করে।’ এজাহারভুক্ত আসামিদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এজাহারে নাম আসার পর থেকেই তারা পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
এদিকে এজিবি কলোনির স্থানীয় যুবলীগ কর্মী পলাশ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত সাগর ও বাবু খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আমরা সবাই এক সঙ্গে রাজনীতি করি। সাগর মিল্কী ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ এবং ভাতিজা। তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি আমরা বুঝতে পারছি না। মিলনসহ অনেককে আসামি করা হয়েছে। শুনেছি তাদের অনেকেই শাজাহানপুর, মতিঝিল এলাকায় ঘুরে বেড়ায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিলন যুবলীগ নেতা এইচ এম জাহিদ সিদ্দিক তারেকের অনুসারী। তারা এজিবি কলোনিতে তারেকের যে অফিস ছিল সেখানে বসতো। হত্যাকাণ্ডের পর মিল্কী ও তারেকের দুটি অফিসই পুলিশ বন্ধ করে দেয়।’
২০১৩ সালের ২৯ জুলাই গুলশানে ‘শপার্স ওয়ার্ল্ড’ বিপণী বিতানের সামনে খুন হন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কী। এরপর ওই বিপণী বিতানের সিসি ক্যামেরা দেখে হত্যাকারী হিসেবে যুবলীগ নেতা এইচ এম জাহিদ সিদ্দিক তারেককে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারেক খিলক্ষেতে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
স্থানীয়রা জানান, মিল্কী ও তারেকের অনুসারীদের মধ্যে এখনও বিরোধ আছে। এজিবি কলোনিতে প্রায়ই এই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। বাবুকে গুলি করার কিছুদিন আগেও মিল্কীর অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছিল তারেকের অনুসারীরা। এই ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি মামলাও হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত পাঁচজনের বিষয়ে নিহত বাবুর বাবা আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার ছেলে মারা গেছে, আমি এই হত্যার বিচার চাই। পুলিশ তদন্ত করছে। আমি মামলায় কয়েকজনের নামও দিয়েছি। আমার বক্তব্য আমি পুলিশকে জানিয়েছি। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা জড়িত থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে নিয়ে অনেক মিথ্যা তথ্য পত্রিকায় আসছে। এতে আমি সুষ্ঠু বিচার নাও পেতে পারি। আমার ছেলে মাসে ১০ হাজার টাকা ডিস ব্যবসা থেকে পেত, গণমাধ্যম তা ১০ লাখ বানিয়েছে।’
মতিঝিল থানার ওসি মোহাম্মদ ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
/এআরএল/
আরও পড়ুন: