‘আম্মাকে তো আমার সামনে মারার চেষ্টা করেছো’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির আত্মহত্যা এবং সুইসাইড নোটের কিছু বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে। ওই সুইসাইড নোটে আকতার জাহান লিখেছেন, তার একমাত্র ছেলে ‘সোয়াদকে যেনো ওর বাবা কোনওভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে।’ সোয়াদের গলায় তার বাবা তানভির আহমদ ছুরি ধরেছিলেন বলেও ওই সুইসাইড নোটে আকতার জাহান উল্লেখ করেছেন।

ছেলে সোয়াদের সঙ্গে রাবি শিক্ষক আকতার জাহান

এবার ‘গলায় ছুরি ধরার’ ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে আকতার জাহানের ছেলে আয়মান সোয়াদ আহমেদ। সেখানে সে দাবি করেছে, তার সামনেই তার মা-কে মারার চেষ্টা করেছিল তানভির আহমেদ। সোয়াদের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো –

আয়মান সোয়াদ আহমেদ-এর ফেসবুক স্ট্যাটাস“অনেকদিন ধরেই আমার কাছে ওই ‘গলায় ছুড়ি’ ধরার ঘটনাটা জানতে চাওয়া হচ্ছে। আজকেই বলেই দেই, কি ঘটেছিল ওই দিন।

“আম্মা আর আমি বাইরে যেতে চাইসিলাম আমার এক বান্ধবীর বাসায় (বান্ধবীর নাম মেনশন করলাম না)। সারাদিন প্ল্যানিং করার পর আমি আব্বার কাছে অনুমতি চাইতে গেসিলাম। অনুমতি চাওয়ার সময় আব্বা বলে ‘তোমার আম্মাকে বলো ওর মত চলে যেতে। আমি তোমাকে দিয়ে আসবো’। আমি বললাম ‘আজব তো। আমি আর মা এই জিনিস প্ল্যান করসি। তুমি কেন interfere করতেসো?’ আব্বা বলল ‘বাপ হিসেবে আমার এই অধিকার আছে’। আমি বললাম ‘কিন্তু আম্মার সাথে প্ল্যান নষ্ট করার অধিকারও তোমার নাই’। আব্বা বলে ‘main thing is....তোমাকে ওই মহিলার সাথে যেতে দিব না। গেলে আমার সাথে যাবা, নাহলে নাই’। আমি বলি ‘কি এমন করসে যে এত ক্ষতিকর মনে করো আম্মাকে? হ্যা?’ আব্বা কিছু না বলে নিজের ঘরে চলে যায়ে। পরে বাধ্য হয়ে আম্মাকে ফোন দিয়ে বলি যে আমি যেতে পারব না আজকে। মা বলে ‘আমি বুঝছি কি হয়েছে। চিন্তা করিস না বাবা। আর কয়েকটা দিন’। পরে সন্ধ্যা বেলায় আব্বাকে বলি ‘প্ল্যানটা নষ্ট করার জন্য ধন্যবাদ’ তখনি আব্বা বলে উঠে ‘তুই কি ঝগড়া লাগাইতে চাস? তোর আম্মার মত হয়েছিস’। আমি বলি ‘আমার আম্মার নামে এইসব কথা বলবা না। খবরদার!’ আব্বা বলে ‘তোর মায়ের সাথে কথা বন্ধ কর, এই কথাগুলাও বন্ধ হয়ে যাবে।’ আমি বলি "বন্ধ করবো না!" আব্বা তখনি রান্নাঘরে গিয়ে একটা বড় চাকু নিয়ে এসে আমার গলায় ধরে বলে ‘কি বললি? শুনতে পাইনি’ বললাম অল্প শুরে ‘বন্ধ করবো না। মেরে ফেলতে চাইলে মারো। আম্মাকে তো আমার সামনে মারার চেষ্টা করেছো। সিউরলি এটাও পারবে।’ আব্বা চাকুটা ছুড়ে মাটিতে ফেলে দিলো। কিছু না বলে চলে যায়ে ঘরে......”

সুইসাইড নোটে আকতার জাহান লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। শারীরিক, মানসিক চাপের কারণে আত্মহত্যা করলাম। সোয়াদকে যেনো ওর বাবা কোনওভাবেই নিজের হেফাজতে নিতে না পারে। যে বাবা নিজের সন্তানের গলায় ছুরি ধরতে পারে, সে কোনও সময় সন্তানকে মেরেও ফেলতে পারে বা মরতে বাধ্য করতে পারে। আমার মৃতদেহ ঢাকায় না নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

সুইসাইড নোট

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষক তানভির আহমদের সঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করেন আকতার জাহান। ২০১২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত আবাসিক ভবনে (জুবেরি ভবন) একাই থাকতেন আকতার জাহান। তাদের সংসারে একটি ছেলে (সোয়াদ) রয়েছে। সে ঢাকায় নানির বাড়ি থেকে পড়াশোনা করে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষ থেকে আকতার জাহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতপরিচয় আসামির কথা উল্লেখ করে মতিহার থানায় মামলা করেন আকতার জাহানের ছোট ভাই কামরুল হাসান রতন। মামলায় কামরুল হাসান রতন উল্লেখ করেন, ‘সুইসাইড  নোট থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি (আকতার জাহান) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।’

/এসএ/