ডিসিসি মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি

ডিসিসি মার্কেটের ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করছেন পরিচ্ছন্নকর্মীরাডিসিসি মার্কেট হিসেবে পরিচিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) গুলশান পাকা ও কাঁচা মার্কেটের অগ্নিকাণ্ড ও ভবন ধসের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিকালে কাঁচা মার্কেটের সভাপতি শের মোহাম্মদ এই দাবি জানান।
শের মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে, ১০ মিনিটের মধ্যে কাঁচাবাজর কর্নার থেকে অর্থাৎ পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এটা কী করে সম্ভব! আমাদের কাঁচা মার্কেটে ১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী। তারাও দেখেছে। আমি নিজে এসে দেখেছি। আগুন কিভাবে এতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল, এটাই আমার প্রশ্ন।’
শের মোহাম্মদ সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, ‘আগুন লাগিয়েছে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও মেট্রো গ্রুপ। মেট্রো গ্রুপের সঙ্গে আমাদের ১২ বছর ধরে মামলা চলছে। এ কারণেই তারা আগুন দিয়েছে।’
এই ঘটনায় কোনও মামলা করবেন কিনা জানতে চাইলে কাঁচা মার্কেটের এই সভাপতি বলেন, ‘আমরা মামলা করব। আমাদের অভিভাবক আছে। তিনি এলাকার সংসদ সদস্য। তার সঙ্গে আলোচনা করে আমরা মামলা করব।’
আগুন লাগার ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার জন্য বিচারবিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানান শের মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। বিচারবিভাগীয় তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা কেন মার্কেটে ছিলেন— এ প্রশ্নের জবাবে শের মোহাম্মদ বলেন, ‘আমি ২০০১ সালে নিজে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের এক লাখ এক টাকা দিয়ে মার্কেটটি পরীক্ষা করিয়েছি। তখন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মার্কেটের কোনও সমস্যা নেই। সেই কাগজপত্র আমার কাছে আছে।’
মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তদন্ত করলে সেই তদন্তের প্রতিবেদন কেউ মেনে নেবে না বলেই ব্যবসায়ীরা তদন্ত করবেন না বলে জানান শের মোহাম্মদ। তবে এখানেই ব্যবসা করে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আমরা চাই এখানে বসতে। আমরা দোকানদাররা এখানে ব্যবসা করতে চাই। আমরা অন্যায়ভাবে এখানে বসতে চাই না।’
এদিকে ডিএনসিসির মার্কেটটিতে আগুন লাগার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফের ফায়ার সার্ভিসের দুর্বলতার কথা বলছেন ব্যবসায়ী। গুলশান জোনের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের দুর্বলতা ছিল। এতটা দুর্বলতা তাদের থাকার কথা না। তাদের কাজে গাফিলতি ছিল। সে কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের কিছু সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের এখন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রয়োজন, পানির সংযোগ প্রয়োজন। মার্কেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য সহায়তা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশন সেই সহযোগিতা করলে আমরা বুঝব তারা ষড়যন্ত্র করেনি। এসব প্রয়োজন মেটাতে তারা যে আচরণ করবে তাতেই আমরা তাদের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাব।’
তবে নাশকতার বিষয়ে মামলা দায়ের করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান গুলশান জোনের এই ব্যবসায়ী নেতা।
আগুন লাগার পর ধসে পড়েছে ডিএনসিসি মার্কেটপ্রসঙ্গত, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিসিসির দু’টি মার্কেটে আগুন লাগে। এর ১৫ মিনিটের মধ্যে কাঁচা মার্কেটটি ধসে পড়ে। পরে আগুন পাকা মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে। ১৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ। তবে আগুন এখনও পুরোপুরি নেভেনি। পুরোপুরি নেভাতে আরো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এরই মধ্যে বুধবার সকাল থেকে কাঁচা মার্কেটের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।
ডিসিসি কাঁচা ও পাকা মার্কেটে ছয় শতাধিক দোকান ছিল। আগুনে প্রায় আড়াইশ দোকান পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং বাকিগুলো নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

 

/টিআর/