এছাড়া বিনা বিচারে কারাগারে থাকা অন্য দুই আসামি সাইদুর রহমান ও রাজীব হোসেনকে জামিন না দিয়ে তাদের মামলা ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালাত। আদালতে বন্দিদের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী বেহেশতী মারজান।
এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘চ্যানেল টুয়েন্টিফোর’ বিনা বিচারে এক যুগেরও বেশি সময় কারাগারে সাতজননের আটক থাকা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করে। ওই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী বেহেশতী মারজান। এরপর গত ১৫ ডিসেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সাত বন্দির বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। রুলে কেন তাদের জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে সাত বন্দিকে ২৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। তাদের মামলার নথিও আদালতে তলব করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আদালতের আদেশের কপি না পৌঁছানের কারণে ২৪ জানুয়ারি বন্দিদের আদালতে হাজির করা যায়নি। পরে আদালত বন্দিরের হাজিরের জন্য ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে আদেশ দিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কাফরুল থানায় দায়ের হওয়া একঅস্ত্র মামলায় ২০০৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে রাসেল শেখ কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের এক মামলায় ২০০৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে সাইদুর রহমান কারাগারে আছেন, ২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর খিলগাঁও থানায় হওয়া এক হত্যা মামলায় রাজীব হোসেন একই বছরের ৬ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে আছেন, ২০০৪ সালে কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে হওয়া মামলায় মোহাম্মদ পারভেজ ওই বছরের ২ জুলাই থেকে কারাগারে আছেন, শ্যামপুর থানায় হওয়া এক মামলায় ২০০৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে মাসুদ নামের এক আসামি কারাগারে আছেন, গারো তরুণ লিটন চাম্বু উত্তরা থানায় করা এক হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন। রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা এক মামলায় ২০০৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে বাবু কাশিমপুর কারাগারে আছেন।
আরও পড়ুন: স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি নয়, আর্থিক সহায়তা চান তোফাজ্জেল
/ইউআই/এমএনএইচ/