গাবতলীতে শ্রমিকদের অবস্থান, পরিস্থিতি থমথমে

 

মাজার রোডে পুলিশের অবস্থানপরিবহন ধর্মঘটকে ঘিরে রাজধানীর গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের কয়েক দফায় গোলাগুলি ও সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি এখন থমথমে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় গাবতলী বাস টার্মিনালকে ঘিরে অবস্থান নিয়েছেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে মাজার রোড ও গাব্তলীর শেষ মাথায় পর্বত সিনেমা হলের সামনে অবস্থান নিয়ে রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাব। গাবতলী এলাকায় এখনও খণ্ড খণ্ড আগুন জ্বলছে। তবে ঘণ্টাখানেক হলো কোনও অ্যাকশনে নেই পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাজার রোডের মাথায় পুলিশ-র‌্যাবের অবস্থান নিয়েছে। এদিকে, টেকনিক্যাল থেকে যেসব গাড়ি  গাবতলী ঢুকছে, ওইসব গাড়ি মাজার রোড দিয়ে  বের করে দিচ্ছেন শ্রমিকরা। এসময়  আটকপড়া লোকজন পায়ে হেটে গাবতলী পার হচ্ছেন। বেশির ভাগই আটকা পড়েছেন।  রাত ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি লাশবাহী মিনি ট্রাক হাজির হয় টেকনিক্যাল মোড়ে। গাড়িটি গাবতলীর রাস্তায় রওনা হলেও শ্রমিকরা গাড়িটিকে সোজা রাস্তায় ঢাকা থেকে বের হতে দেয়নি। মাজার রোডের সামনে অবস্থানরত শ্রমিকরা গাড়িটিকে মাজার রোডের ডাইভার্সন রোডটি ব্যবহারে বাধ্য করে।

গাবতলীকে শ্রমিকদের অবস্থান

এছাড়া, বেশকিছু অ্যাম্বুলেন্সকেও শ্রমিকরা গাবতলীর রাস্তাটি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। শ্রমিকদের বাধার মুখে ঢাকায় প্রবেশের জন্য গাবতলী আসা অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে ফিরে যেতে হচ্ছে। আর ঢাকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য যেসব অ্যাম্বুলেন্স আসছে মাজার রোড পর্যন্ত, সেগুলোতে মাজার রোডের ডাইভার্সন রোড দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের কাঁচও ভাঙা দেখা গেছে।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীরা অবস্থান দিয়েছেন মাজার রোডে। আসলামুল হক শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তিনি শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও কোনও শ্রমিক নেতাকেই তিনি খুঁজে পাননি। আসলামুল হক বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে এ ঘটনায় অন্য কারও ইন্ধন রয়েছে। এতদিন যারা আগুন-সন্ত্রাস করেছে, তাদের সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য আমি কাজ করব। জামায়াত-বিএনপি সবসময় সুযোগ খুঁজে। সেই সুযোগ না দিতে আমি নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে আছি।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার পুলিশসহ আট জন আহত হয়েছেন। আহতদের সবাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন— পুলিশ কনস্টেবল অনিক চক্রবর্তী (২১), মো. রবিউল (২১), মিজু আহামেদ (২২) ও রফিকুল ইসলাম (২২), গরু ব্যাবসায়ী দেলোয়ার (৫০), শ্রমিক মো. রবিউল (৪০), গাড়ীচালক মো. হাসান (২৫) এবং হোটেল বয় মো. রিফাত (২১)। এর মধ্যে গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আহতদের রাত সাড়ে ১১টায় ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।

এর আগে রাত ৯টার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনালের পাশের একটি পুলিশ বক্সকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন পরিবহন শ্রমিকরা। কিছুক্ষণ পর সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। গাবতলী টার্মিনাল এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ওপর পুলিশ ফাঁকা গুলি, টিয়ার শেল ছোড়ে।  পুরো এলাকায় এখন বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।  রাত একটার পর পুলিশের সংখ্যা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। তবে র‌্যাবের সংখ্যা আগের মতোই আছে।

/টিআর/এমএনএইচ/