আসামিকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে এজলাসে হাজির করা যাবে না: হাইকোর্ট



সুপ্রিম কোর্ট (ছবি: সংগৃহীত)

ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতের এজলাসে আসামি হাজির করা যাবে না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কারাগার থেকে আদালত ভবনে আনা-নেওয়ার সময় ডাণ্ডাবেড়ি পরানো যাবে। সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
একই সঙ্গে চার আসামিকে ডাণ্ডাবেড়ি পরানোর ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় ডিআইজি (প্রিজন) মো. তৌহিদুল ইসলামকে অব্যাহতি দেন হাইকোর্ট।
আদেশ শেষে তৌহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাণ্ডাবেড়ি না পরানোর বিষয়ে আদালতের আগের নির্দেশনা ছিল, সেটি আমার জানা ছিল না। পুলিশের চাহিদার ভিত্তিতে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়, আমরা সিদ্ধান্ত নেই না।’
এদিকে লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে আইনজীবী সাবিনা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিআইজির (প্রিজন) ক্ষমাপ্রার্থনার পর আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি করে আর কখনো আদালতে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আসামি হাজির না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ’
এর আগে সকালে ব্যাখ্যা দিতে হাইকোর্টে আসেন ডিআইজি (প্রিজন) মো. তৌহিদুল ইসলাম। আদালতে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আসামিকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালত কক্ষে আনা হবে না ‘
গত ৯ মার্চ ডিআইজি (প্রিজন) দেশের বাইরে থাকায় তার পক্ষে আদালতে ব্যাখ্যা দেন ঢাকার সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির। ওই দিন ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘চার আসামির সবাই জেএমবির সদস্য হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছিল।’
গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিনাবিচারে কারাগারে থাকা ১০ আসামির জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ২৩ ফেব্রুয়ারি ১০ আসামিকে পূর্বনির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে হাবিবুর রহমান ওরফে ইসমাইল, মনিরুজ্জামান ওরফে মুন্না, নাসির উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিনকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আনা হয়। এই চারজনকে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে হাজির করার ঘটনায় ডিআইজিকে (প্রিজন) ৯ মার্চ উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
/এমটি/ইউআই/এমএনএইচ/