চিকিৎসায় প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় রাজধানীর উত্তরার ‘আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে’র কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক রাকিবুল ইসলাম লিটুসহ দু’জনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। মামলার অন্য আসামি হলেন, উত্তরার লুবানা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. জহুরুল ইসলাম।
বাদির আইনজীবী মঞ্জুরুল আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী মামলার বাদির জবানবন্দী গ্রহণ শেষে আগামি ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসমিদের আদালতে হাজির হতে বলেছেন।
অধ্যাপক ডা. রাকিবুল ইসলাম লিটুর (৪৫) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার আরজিতে বলা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে দুপুর ২টার দিকে বাদি বুকে ব্যাথা ও চাপ অনুভব করলে উত্তরার সোনারগাঁওয়ের ‘উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে’র জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার তাৎক্ষণিক ইসিজি করেন। ইসিজি রিপোর্ট দেখে ১নং আসামি ডা. রাকিবুলের তত্ত্বাবধানে তাকে ভর্তি করে নেন।
পরে, ২৭ ফেব্রুয়ারি তারিখে পুনরায় ইসিজি, হেমাটোলজি, বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষাসহ ইকো কালার ডাপলার পরীক্ষা করে বিকাল ৪টায় রির্পোট দেন। রিপোর্ট পাওয়ার পর ১ নম্বর আসামি বাদির লোকজনকে তার নিজের কক্ষে ডেকে বলেন, ‘হৃদযন্ত্রের সমস্যা আছে। এনজিওগ্রাম করতে হবে। এ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরার লুবানা জেনারেল (প্রা.) হাসপাতালে নিতে হবে। যেখানে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা পাওয়া যাবে।’
তার কথাতে সেদিনই বাদি লুবানা হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসক রাকিবুল এনজিওগ্রাম করেন। পরে তিনি লুবানা হাসপাতালের প্যাডে হৃদযন্ত্রের চিত্র এঁকে কোথায় ব্লক এবং কোথায় কোনপাশে রিং পড়াতে হবে তা রোগীর স্বজন অর্থাৎ মামলার বাদিপক্ষের সাক্ষীদের জানিয়ে বলেন, ‘এখনই রিং না পড়ালে রোগীর প্রচণ্ড বিপদ হবে।’ তখন রোগীর স্বজনরা রিং পড়াতে রাজি না হলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা ও হুমকি দেওয়া হয়।
পরে রোগীকে শেরে বাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক অধ্যাপক এম আক্তার আলী এনজিওগ্রাম দেখে রিং পড়ানোর প্রয়োজন নেই বলে জানান।
মামলায় আরও বলা হয়, লুবনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক রাকিবুল বলেছিলেন যে ব্লকের পরিমান শতকরা ৯০ ভাগ এবং খুব দ্রুত রিং না পরালে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আসামিরা রিংয়ের দাম এবং আনুসঙ্গিক চিকিৎসা সেবাসহ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন।
/এসআইটি/এমও/