সম্প্রতি স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করেন মাছরাঙা টেলিভিশনের এই সাংবাদিক ও জনপ্রিয় উপস্থাপক। তা নিয়েই শুরু হয় আলোচনা। একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক যখন নির্যাতনের শিকার হন, তখন বাংলাদেশের নারী নির্যাতন পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা নিয়েই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পারিবারিক নির্যাতন ও এ প্রসঙ্গে নারীদের করণীয়সহ নানা বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের কথা হয় এই সাংবাদিকের সঙ্গে।
মৌ জানান, গত ২৮ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন নিয়ে হাজারীবাগ থানায় গিয়ে স্বামী, শাশুড়ি, দেবর ও ননদের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (গ) ধারায় মামলা করেন। ওই রাতেই গ্রেফতার করা হয় আসামিদের। তবে চার আসামির একজন এখন দেশের বাইরে, দুই জন জামিনে ও প্রধান আসামি কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে বলে জানান মৌ।
মামলা ও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মৌ বলেন, ‘মামলা মামলার মতো করেই চলবে। ভবিষ্যতে কী হবে সেটা সময় ও পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে। আপাতত সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও পেশা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই। ঘটনা ও দুর্ঘটনা মানুষের জীবনের অংশ, সেগুলো নিয়ে বসে থাকতে চাই না। একইসঙ্গে, আমার সন্তানেরা তাদের বাবার কাছ থেকে কতটুকু আর্থিক সুবিধা পাবে, সেটাও দেখার বিষয়। কারণ এগুলো সন্তানদের পাওনা, এখানে ইগোর কিছু নেই।’
কাবিননামায় নারীর অধিকার বিষয়ে মৌ বলেন, ‘কাবিননামায় লেখা আছে, স্ত্রী চাইলে স্বামীকে তালাক দিতে পারবে। কিন্তু কাবিননামায় স্ত্রীকে এই অধিকার দেওয়া হবে কিনা, সেটা আগে হবু স্বামীর কাছেই জানতে চাওয়া হয়। কর্তৃত্বটা তাহলে প্রকৃতপক্ষে কার হাতে? কাবিননামায় তালাকের ক্ষমতা তো স্ত্রীর অধিকার। এটা যদি কারও অনুমতিসাপেক্ষেই দিতে হয়, তবে তো ওই সময়ই তার অধিকারটি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সে তখন মানুষ না, কেবলই মেয়ে।’
মৌ মনে করেন, কেউ বাইরে ভালো হলেই ঘরেও ভালো হবে— এমন সরলীকরণের জায়গাও নেই। সামাজিক ও পারিবারিক আচরণ দুইটি ভিন্ন বিষয়। এগুলো স্পষ্ট হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি।
দীর্ঘ সংসার জীবনের পর এসে পারিবারিক নির্যাতনের মামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মৌ বলেন, ‘এতদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গণমাধ্যম এত সরব ছিল না, আইনটাও সেরকম ছিল না। তাই খুব অল্পসংখ্যক মামলার ঘটনাই জানাজানি হতো। আবার কথায় কথায় মামলা করতে হবে, কিছু হলেই আইনের দ্বারস্থ হতে হবে— এমনও তো নয়। স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনটা আত্মিক। এই সম্পর্কে ভুল হলে দু’জন দু’জনকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ কেন দেবো না? তবে পারিবারিক সহিংসতার বিষয়ে কথা বলতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেন কোনও নারী পারিবারিক সহিংসতার বলি না হন।’
সন্তানদের প্রসঙ্গে মাছারাঙা টিভির এই সাংবাদিক বলেন, ‘সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের সর্ম্পক কেবল টাকার অঙ্কে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বাবা-মা আলাদা হয়ে গেলে বাবা হয়তো সন্তানের ভরণপোষণের খরচ দিলো। কিন্তু সে বাবাকে ছাড়া ভালো থাকবে কিনা, সেটাও তো বড় প্রশ্ন। সেই অর্থে আমার সন্তানকে বঞ্চিত করার আগে আমাকে অনেক ভাবতে হয়েছে।’
আরও পড়ুন-
আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিখোঁজ!
‘সস্তায় এত ভালো সেবা অন্য কোথাও নেই’
/জেএ/ইউআই/টিআর/