মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় এখনও কেউ কেউ অধরা রয়েছে। তবে সংখ্যা দিয়ে তা নিরূপণ করা যাবে না। আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে। এই হামলায় কার কী রোল ছিল, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, এ বছরের মধ্যে তদন্ত সমাপ্ত করতে পারব।’
দেশে আরও জঙ্গি আস্তানা আছে কিনা?—এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘আরও জঙ্গি আস্তানা আছে। আমরা যখনই খবর পাচ্ছি, তখনই অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান চলবে। দেড় বছরের মধ্যে নব্য জেএমবির কেউ থাকবে না। তবে অন্য কোনও নামে আসলেও আসতে পারে।’
গুলশান হামলার ঘটনায় ৫৪ ধারায় গ্রেফতার ও পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে অব্যাহতি পাওয়া তাহমিদ হাসিব খানের বিষয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সে এখন ফ্রি, বিদেশেও যেতে পারবে।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে অভিযান তামিম চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হয়। ওই আস্তানায় সাত দিন আগে অমি চলে যায়। অমি গুলশান হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গিকেও চিনত। নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা মাইনুল ইসলাম মুসার নেতৃত্বে নতুন হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অমি নিজেই এসব তথ্য জানিয়েছে।
গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে যায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল সানবীম-এর ‘এ’ লেভেল পড়ুয়া আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার ওরফে অমি। ৭ মার্চ সকালে পুলিশ কুমিল্লার চান্দিনায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস থামালে পুলিশের ওপর গ্রেনেড হামলার চেষ্টা করে দুই জঙ্গি। তাদের একজন আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ ওরফে অমি, অন্য জন মাহমুদ হাছান। পরবর্তী সময়ে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড উদ্ধার করে পুলিশ।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া অমি এক সেনা কর্মকর্তার ছেলে। একবছর ধরে অমিকে খোঁজা হচ্ছিল। সে বাসা থেকে কিভাবে পালিয়ে গেল এবং কিভাবে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লো, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানিয়েছে সে।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিক নিহত হন। এর মধ্যে ৯ জন ইতালিয়ান, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশ ও আমেরিকার দ্বৈত নাগরিক ও দুই জন বাংলাদেশি। এছাড়া হামলার মুহূর্তে পুলিশি অভিযান শুরুর মুখে জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন রবিউল ইসলাম ও সালাউদ্দিন খান নামে দুই পুলিশ কর্মকর্তা। আহত হন আরও অন্তত ২৫ জন পুলিশ সদস্য। পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোর নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে রোহান ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল নামে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। এছাড়া অভিযানে নিহত হয় সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নামে এক শেফ। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাকির হোসেন শাওন নামে আরেক তরুণ। অভিযানের আগে ও পরে হলি আর্টিজান থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এক জাপানি ও দুই শ্রীলঙ্কানসহ অন্তত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।
/এমএনএইচ/