বনানী থানায় দায়ের হওয়া ধর্ষণ মামলার তদন্তভার পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের ওপর ন্যাস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মামলার কাগজপত্র, তদন্তের অগ্রগতির প্রতিবেদনসহ আনুষঙ্গিক সব তথ্য ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন।
আসমা সিদ্দিকা মিলি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত করবেন ইন্সপেক্টর এমি। তার কাছেই মামলার যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করার প্রস্তুতি চলছে। এখনও আমরা মামলার অগ্রগতি বিষয়ক তথ্যাদি হাতে পাইনি।’
যে কারণে তদন্ত কর্মকর্তার বদল
ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাম পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলা দায়ের থেকে তদন্তের শুরু থেকে নানা ধরণের অনিয়ম ওঠায় বিরক্ত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। এছাড়া মামলার ভিকটিম ও বাদী সবাই নারী। পুরুষ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তারা সব কথা খুলে বলতে পারেন না। নারীরাও সব প্রশ্নের উত্তর দিতে দ্বিধাবোধ করেন, লজ্জা পান। পুরুষ কর্মকর্তাও ঠিকমতো প্রশ্ন করতে পারেন নাই। তাই নারী ভিকটিমদের গোপনীয়তা ও আইনগত স্বার্থ সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্যই বনানী থানার পুরুষ তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় মামলার আরও সুষ্ঠু ও নিবিড় তদন্তের জন্য ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
হাই প্রোফাইল আসামিদের মামলা তদন্তের সক্ষমতা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের আছে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আলাদা কিছু নয়। তাদের সঙ্গে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থা তদন্ত করছে। মামলার বাদী, ভিকটিম সবাই নারী। তাই নারী পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে মামলা তদন্ত আরও কার্যকরী হবে।’
প্রসঙ্গত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই শিক্ষার্থীদের জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। ওইদিনই তারা ওই ছাত্রীদের বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যায়। মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়— সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে মামলার সাফাত ও নাঈম।
/এসএমএন/এমও/