ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আয়শা সিদ্দিকা মিলি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলার ডকেট মাত্র কাল-ই বুঝিয়ে পেয়েছি। আলামত হিসেবে আমাদের কাছে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর একজনের একটি সালোয়ার আছে। সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতির জন্য আজকালের (বৃহস্পতি-শুক্রবার) মধ্যে আদালতের কাছে আবেদন করা হবে। আদালতের অনুমতি পাওয়া গেলে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য সালোয়ারটি সিআইডি অথবা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে।’
তবে বনানী থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল মতিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার এক তরুণীর একটি কামিজ ছিল আমার কাছে। আরেকজন তার পোশাক ধুয়ে ফেলেছেন। এখন ওই একটি কামিজ-ই মামলার তদন্তের আলামত হিসেবে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের নারী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
মেডিক্যাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ফরেনসিক পরীক্ষায় এক মাস আগে ধর্ষণের আলামত তরুণীদের শরীরে পাওয়া না গেলেও পোশাকে পাওয়া যাবে।
ধর্ষণের শিকার এক তরুণীর তথ্যমতে, সেই রাতে তিনি যে পোশাক পরেনছিলেন সেটি পরবর্তীতে আর পরিধান করেননি। ধুয়েও ফেলেননি।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানান, ঘটনার এক মাস পর ওই দুই তরুণীর শরীর থেকে ধর্ষণের আলামত নাও পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু পোশাক থেকে সহজেই আলামত পাওয়া যাবে। যদি পোশাকে ধর্ষকের বীর্য কিংবা কোনও কোষ বা চুলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় তবে সহজেই তা ধরা পড়বে ফরেনসিক পরীক্ষায়।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওই দুই শিক্ষার্থীকে জন্মদিনের দাওয়াত দেয়। এরপর তরুণীদের বনানীর কে-ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে নিয়ে যায়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই তরুণীকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। ধর্ষণ মামলার আসামিরা হলো- সাফাত আহমদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।
/এসএমএস/এআর/ এপিএইচ/