সাভারের আলোচিত রানা প্লাজার নকশা বহির্ভূত দুর্নীতি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ এম আতোয়ার রহমান এ আদেশ দেন।
মামলা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন স্থপতি হাজী মো. আলী খান, স্থপতি এটিএম মাসুদ রেজা, প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসাইন, মর্জিনা বেগম ( পিতা-রাবিবুর রহমান), মো. আবুল বাশার ও মো. আমিনুল ইসলাম। আইনজীবীদের মাধ্যমে এরা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালে বিচারক তা গ্রহণ করে এ সিদ্ধান্ত দেন।
আর মামলার আসামিরা হচ্ছেন রানার বাবা মো. আব্দুল খালেক , রানার মা মর্জিনা বেগম , সোহেল রানা, প্রকৌশলী রেফাতুল্লাহ, উত্তম কুমার রায়, রফিকুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল হাসান, ফারজানা ইসলাম ও আব্দুল মুত্তালিব।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৫ জন নিহত এবং দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। নিহত শ্রমিকদের মধ্যে ২৯১ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এরা সবাই ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
ঘটনার পরপরই ভবন নির্মাণে দুর্নীতির অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক। ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে হওয়ায় ওই সময় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে বাদ দিয়েই তার বাবা-মাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। তদন্তে সোহেল রানাই ভবনের মূল দেখভালকারী ছিল প্রমাণিত হলে চার্জশিটে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক এসএম মফিদুল ইসলাম ওই বছরের ১৬ জুলাই সোহেল রানাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এম আতোয়ার রহমান গত বছরের ৬ মার্চ দুদকের দেয়া এ অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকায় পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পুনতদন্ত শেষে চলতি বছরের শুরুতে ফের একই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
/এসআইটি/এমও/