বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে সোনা আমদানি নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলে সোনা আমদানি করতে হয়। এ প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় গত পাঁচ বছরে এলসির মাধ্যমে কোনও সোনাই আমদানি হয়নি। ব্যাগেজ সিস্টেমে আনা প্রবাসীদের কিছু সোনা তারা কিনেছেন। অন্য সব সোনাই ভিন্নভাবে সংগ্রহ করেন ব্যবসায়ীরা।
‘তাহলে শুধু আপন জুয়েলার্সেই কেন অভিযান’ জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমানের ভিত্তিতেই আপন জুয়েলার্সে অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানসহ অন্যান্য অভিযোগও রয়েছে। তাছাড়া ১৫ দশমিক ১৩ মণ মণ সোনার বৈধ কোনও কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি। সেই কারণেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এসব সোনা জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে।’ সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে কোনও অভিযান শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর চালাবে না বলেও জানান তিনি।
আপন জুয়েলার্সের অংশীদার গুলজার আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশে সোনা ব্যবসা সবাই একই পদ্ধতিতে করেন। আজ আমরা যদি অপরাধী হয়ে থাকি তাহলে অন্যরা নয় কেনো? এক্ষেত্রে শুধুমাত্র আপন জুয়েলার্সকে কেন টার্গেট করা হয়েছে?’
‘আপনাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সোনা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে, এর জবাবে তিনি বলেন, ‘তাহলে আমিও অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অভিযান ও সোনা জব্দ করার বিষয়ে আইনি কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে আপন জুয়েলার্সের আইনজীবি আখতার ফরহাদ জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ও সময় এখনও হয়নি। সোনা জব্দ করার পর শুল্ক কর্তৃপক্ষ আমাদের জানাবে বা একটা নোটিশ দেবে। সেটা যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের না দেবে ততক্ষণ আমরা কোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবো না। আমাদের যখন জানাবে বা নোটিশ দেবে, তখন সেটা নিয়ে কী করা যায় চিন্ত-ভাবনা করা হবে।
আপন জুয়েলার্স সঠিক কোনও কাগজপত্র দিতে পারেনি শুল্ক গোয়েন্দাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট আখতার ফরহাদ জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ১২৫ কেজি সোনার কাগজ জমা দিয়েছি। উনারা যাচাই-বাছাই না করেই সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমে বলে দিলেন—কাগজ দাখিল করা হয়েছে সেটার কোনও ভিত্তি নেই। উনারা তো কাগজপত্রগুলো দেখতে পারতেন। বিষয়টি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমাদের কাছে কিছু কাগজ আছে তো। আমরা সময়ের আবেদন করেছিলাম। চল্লিশ বছরের একটি প্রতিষ্ঠান। সব কাগজপত্র তো একসঙ্গে করা নেই। সবগুলো কাগজ যোগাড় করতে হবে। সেগুলো গুছিয়ে তারপর তাদের দেবো। সেই সুযোগটাও তারা আমাদের দেননি। দেওয়া উচিত ছিলো। আমাদের সময় দিলে হয়তো কিছুটা হলেও কাগজপত্র দিয়ে তাদের সন্তুষ্ট করতে পারতাম।’
গ্রাহকের পাওনা টাকা প্রসঙ্গে এই আইনজীবি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে তো এই মুহূর্তে কাগজপত্র কিছুই নেই। আমাদের সুযোগ দিতে হবে। গ্রাহকের সব পাওনাই দিয়ে দেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মাসুম পাটোয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত সপ্তাহের একটি বৈঠকে আপন জুয়েলার্সের জব্দ করা সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে (অস্থায়ী) রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
/জেইউ/এসএমএ/