আপসে ছাড়া পেলেন বিচারপতির গাড়িচালক

 

ঘটনার পর বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের গাড়িচালক কামালআপস হওয়ায় বিচারপতির গাড়ি চালক কামাল হোসেন ছাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা জানান, দুর্ঘটনার শিকার মোটর সাইকেল-আরোহী জুবিন ফয়সালের স্বজনদের সঙ্গে চালকের আপস হওয়ায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।

এদিকে, উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর অভিযোগে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহীদুল আলম ঝিনুক।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিচারপতির গাড়ি নিয়ে যে চালক উল্টোপথে চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন, তার সঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির আপস হয়ে গেছে। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের সাপেক্ষে সমঝোতা হয়ে যাওয়া এ বিষয়ে কোনও পক্ষের অভিযোগ না থাকায় আমাদের কিছুই করার নাই। আমরা চালককে ছেড়ে দিয়েছি।’

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের (দক্ষিণ বিভাগ) উপ-কমিশনার রিফাত বিন শামীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার রাতেই (২ জুলাই) দুর্ঘটনাকবলিত বিচারপতির গাড়ি ও চালককে রমনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে আপস হয়ে যাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়।’

পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে কেউ যদি কারও জান-মালের ক্ষতি করেন, সেটা দণ্ডবিধির অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এজন্য অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তকে অভিযোগ করতে হবে। এছাড়া মোটরযান আইনেও এটি জরিমানা যোগ্য অপরাধ হতে পারে। তবে দুই পক্ষই যদি আপস করে ফেলেন, তখন পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু করার থাকে না।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ঘটনায় কেউ কোনও অভিযোগ না করায় চালককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গাড়িও ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

উল্টোপথে গাড়ি চালানোর কারণ হিসেবে বিচারপতির গাড়িচালক কামাল হোসেন পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘যানজট থাকলে রাস্তায় উল্টোপথে গাড়ি চালানো হয়। আজও উল্টোপথে গাড়ি চালিয়েছি। তখনই এ দুর্ঘটনা ঘটে।’

রূপসী বাংলা এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক ইনস্পেক্টর (টিআই) সংগ্রাম দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চালককে আমরা রমনা থানার মোবাইল টিমের কাছে গাড়ি ও গাড়ির চালককে হস্তান্তর করি পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তারা কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটা থানা বলতে পারবে।’

রবিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় রূপসী বাংলা মোড়ে উল্টো পথে যাওয়ার সময় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনে গাড়ি চালক কামাল হোসেন। এতে জেবিন ফয়সাল নামের এক তরুণ গুরুতর আহত হন। তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় বিচারপতি গাড়িতে ছিলেন না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শহীদুল আলম ঝিনুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রসিকিউটরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের মামলার বিচারপতিদের প্রটেকশনের জন্য  এই সরকারি গাড়ি বরাদ্দ ছিল।’

কর্তব্য কাজে অবহেলার কারণে কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না জানতে চেয়ে গাড়ি চালক কামাল হোসেনকে ট্রাইব্যুানাল থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে তাকে।’

কামাল হোসেনকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়, ২ জুলাই রাত আটটার সময় রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার কারণে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেওয়ায় মোটরসাইকেল আরোহী মারাত্মকভাবে জখম হন। জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তি বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাই গাড়ি চালক কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন।

 আরও পড়ুন: উল্টোপথে চলা বিচারপতির গাড়িচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী আহত

/এসএমএন/জেইউ/এমএনএইচ/