গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার চকবাজার থানার বাগানবাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয় মঞ্জুর হোসেন। পরিবার তাকে জাসদ (ইনু) নেতা বলে দাবি করে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) মোরাদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতবছর ট্রাক স্ট্যান্ড নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তখনও আহত হয়েছিল মঞ্জুর। ট্রাক স্ট্যান্ডের দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। আমরা মামলা নিয়েছি। তদন্ত শুরু করেছি।’
মঞ্জুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মঞ্জুর এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার নামে থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে একটি হত্যা মামলা, তিনটি মাদক মামলা ও একটি মারামারির ঘটনায় মামলা রয়েছে। পিচ্ছি মনির নামে তার আরও এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে ৭/৮ টি মামলা রয়েছে। মঞ্জুর দুই বিয়ে করেছে।’
ওসি বলেন, ‘তার কোনও রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের জানা নেই। সে এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবেই পরিচিত।’
পুলিশের ধারণা, স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারার বিরোধ নিয়েই এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে। লালবাগ কেল্লার এলকায় মঞ্জুর ও তার ভাইয়ের আধিপত্য রয়েছে। একসময় কেল্লার মোড়ে তাদের নিজস্ব বাড়ি ছিল। পরে তা বিক্রি করে নদীর ওপারে জিয়ানগর বটতলায় বাড়ি করে চলে গেলেও কেল্লার মোড়ে তাদের প্রভাব রয়েছে।
মঞ্জুর ভাই গুলজার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঞ্জু এলাকায় জাসদের (ইনু) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। সে জাসদের ২৪ নং ওয়ার্ডের সভাপতি ছিল।’
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছি। মামলা নম্বর ৪৯। এতে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছি। যাদের সঙ্গে এর আগেও মঞ্জুর দ্বন্দ্ব ছিল। গতবছর ট্রাক স্ট্যান্ডে একটা রুম ওঠালে তখন ওই গ্রুপটি তা ভেঙে দেয়। এটা নিয়ে আবার তারা মারল কিনা, আমি বুঝতেছি না।’
শনিবার বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের বড় ভাই গুলজার লাশ নিয়ে প্রথমে কেল্লার মোড় ও পরে তাদের আদি বাড়ি ফরিদপুরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ফায়কা রহমান ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। নিহতের মাথা থেকে একটি বুলেট বের করা হয়েছে। গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছে, নিহত মঞ্জুর কেল্লার মোড় এলাকায় একজন সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত ছিল। সে প্রথমে স্থানীয় আওয়ামী লীগে যোগ দিতে চেয়েছিল, তবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে দলে সুযোগ দেননি। এরপর সে জাসদে যোগ দেয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হয়েছে বলেও দাবি করে। স্থানীয় জাসদ নেতাদের সঙ্গে তার ওঠবোসও ছিল। ঘটনার আগেও সে বাগানবাড়িতে জাসদ (দক্ষিণ) এর সভাপতি ইদ্রিস ব্যাপারী ও সাধারণ সম্পদক অ্যাডভোকেট মিহির হোসেনের সঙ্গে দেখা করেছিল। এরপরই একটি চায়ের দোকানের সামনে হামলার শিকার হয়।
এদিকে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অল্প কিছুদিন আগে সে আমাদের দলে এসেছে। যাতায়াত করেছে। আমি শুনেছি এমন (হত্যা) একটি ঘটনা ঘটেছে। তবে এরচেয়ে বেশি আমি কিছু জানি না।’
/এমএনএইচ/