অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কনসেপ্টটি (ধারণা) হলো সেনা শাসকদের কনসেপ্ট। পাকিস্তানের কনসেপ্ট, জিয়াউর রহমানের কনসেপ্ট, কাজেই এটা পুনঃস্থাপনে নিশ্চয়ই আমি ব্যথিত।’
তিনি বলেন, ‘টোটাল বিষয়টি দাঁড়ালো যে, মার্শাল আমলে সংবিধানের ৯৬ ধারা সংশোধন করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের যে বিধান অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধন করা হয়েছিল, সেটিকে আবার পুনঃস্থাপন করা হলো।’ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলএসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া ৭৯৯ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। হাইকোর্ট শুনানি করে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তার বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছিলাম। আপিলের শুনানি হয়েছে। পরে রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। আজকে (মঙ্গলবার) আমরা ওয়েব সাইটে পুরো রায়ের কপি পেয়েছি। সাত জন বিচারপতি আপিল শুনানি শুনেছিলেন। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সবাই ঐকমত্য হয়েছেন। আলাদা কেউ রায় দেননি।’
তিনি বলেন, ‘‘রায়ের শেষ অংশে যেটা বলা হয়েছে, সেটা হলো সর্ব সম্মতিক্রমে আপিলটিকে ডিসমিস করেছেন। সংবিধানের ৯৬ এর (২) থেকে ৭ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপন করেছেন। এবং রায়ে বিচারপতিদের কোড অব কন্ডাক্ট সম্পর্কে যে বিস্তারিত বর্ণনা আছে, তার সঙ্গেও তারা একমত হয়েছেন। অর্থাৎ যদিও প্রধান বিচারপতি রায়ের এক জায়গায় অনুচ্ছেদ ১১৬ সম্পর্কে বলেছেন, ‘এটা সংবিধান পরিপন্থী।’ কিন্তু রায়ের শেষাংশে যেখানে সবাই একমত হয়েছেন, সেখানে এটা পেলাম না।’’
মাহবুবে আলম বলেন, ‘টোটাল বিষয়টি দাঁড়ালো যে, মার্শাল আমলে সংবিধানের ৯৬ ধারা সংশোধন করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের যে বিধান অন্তর্ভুক্ত করে সংশোধন করা হয়েছিল, সেটিকে আবার পুনঃস্থাপন করা হলো।’
রায়ের পরবর্তী বিষয়ে সরকার নিশ্চয়ই আমাকে যে পরামর্শ দেবে বা আদেশ দেবে, সেমতে আমি কাজ করবো জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রায়ের ভেতরে যা-ই বলা থাকুক না কেন, রায়ের সমাপনীতে কী বলা আছে, সেটি দেখতে হবে। অর্ডার অব দ্য কোর্ট কোনটা সেখানে? কিন্তু ১১৬ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলবো, এটা একজন জাজের অভিমত হতে পারে। কিন্তু যেহেতু রায়ের শেষাংশে, যেটাকে অর্ডার অব দ্য কোর্ট আমরা বলি সেখানে ১১৬ সম্পর্কে বলা হয়নি। তাহলে ১১৬ বাতিল হয়েছে বলে ধরা যায় না । ১১৬ ধারাকে যদি বাতিল করতে হতো তাহলে সবাইকে সেখানে সই করতে হতো। অর্ডার অব দ্য কোর্ড তাই হতো।’
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এখন ওনারা পুনঃস্থাপন করেছেন। কিন্তু আমার বক্তব্য হলো, সংবিধানের যে কোনও ধারা, যেটা সংশোধন করা, বাদ দেওয়া সবটাই সংসদের ব্যাপার। কোর্ট যদি নিজেই
পুনঃস্থাপন করে দেন, তাহলে সংসদের থাকার কোনও দরকার হয় না। আমার কথা হলো যে,সংবিধানের যে কোনও সংশোধনকে অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন। কিন্ত সংবিধানের কোনও ধারা পুনঃস্থাপন করা আমার বিবেচনায় এটা সংসদের কাজ।’
সুপ্রিমজুডিশিয়াল কাউন্সিল কার্যকর করতে এখন আইন করতে হবে কিনা বা আইন না করলে এটা কার্যকর হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এই মুহূর্তে বলা কঠিন ব্যাপার। এটা নিয়ে এই মুহূর্তে কোনও কমেন্টস আমি করবো না। রিভিউ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ‘
বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা অবসরের আগে বা পরে স্বাক্ষর করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারবো না। এটা প্রধান বিচারপতি বলতে পারবেন। অবসরের পর স্বাক্ষরের বিষয়টি আমাদের বহু দিনের ট্রাডিশন। অবসরের পর সই করতে পারবেন না, এই মর্মে বর্তমান প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘রায়ের শেষাংশে যেটা অর্ডার অব দ্য কোর্ট সেখানে ১১৬ সম্পর্কে কিছু বলা নেই। সার্বিক কমেন্টস করতে হলে পুরো রায়টা পড়ে কমেন্টস করতে হবে। তবে আমার একটি দুঃখ রয়ে গেছে । সেই দুঃখ হলো সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদটি সংযুক্ত হয়েছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে। যখন আমাদের সংবিধান প্রণেতারা বসেছিলেন, তারা এটা প্রণয়ন করেছিলেন। আর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কনসেপ্টটি (ধারণা)হলো সেনা শাসকদের কনসেপ্ট। পাকিস্তানের কনসেপ্ট, জিয়াউর রহমানের কনসেপ্ট, কাজেই এটা পুনঃস্থাপনে নিশ্চয় আমি ব্যথিত।’
১১৬ অনুচ্ছেদকে বেআইনি বললেন প্রধান বিচারপতি। এটার সঙ্গে ষোড়শ সংশোধনীর কোনও কন্ডাডিক্টরি ছিল না কিনা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘১১৬ তো কোনও ইস্যু ছিল না। ইস্যু ছিল ৯৬ অনুচ্ছেদ।’
ইস্যু না থাকলেও এটা পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘এটা উচিত না।’
/এমটি/এসএসএ/এপিএইচ/আপ-এমও/