যেভাবে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে হোটেল ওলিও (ভিডিও)

 

বিস্ফোরণের পর হোটেল ওলিও থেকে জঙ্গি সাইফুলের লাশ বের করে আনা হচ্ছে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর কলাবাগ থানার পান্থপথে অবস্থিত হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে (আবাসিক) অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ সময় হোটেলটির তিনতলার একটি কক্ষে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গি সাইফুল ইসলাম। এতে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। ধসে পড়ে ভবনটির তিনতলার কিছু অংশ। বিস্ফোরক এতই শক্তিশালী ছিল যে, এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশেপাশের ১০০ গজের মধ্যে থাকা ভবনগুলোও। কয়েকটি ভবনের গ্লাস ভেঙে পড়ে।   

সোমবার মধ্যরাতের দিকে পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনারলে ৩০২ নম্বর কক্ষে জঙ্গির অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর রাতেই পুলিশ বাইরে থেকে দরোজা লক করে দেয়। ম্যানেজার জসিমের অনুমতি নিয়ে পুলিশ প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে। সরিয়ে নেওয়া হয় হোটেলের অন্যান্য কক্ষের গেস্টদের। এরপর ভোরে তাকে বার বার আত্মসমর্পণের কথা বলে পুলিশ। এরপরও সে আত্মসমর্পণে রাজি হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘নিহত জঙ্গির নাম সাইফুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায়।’

চাকরির কথা বলে গত ৭ আগস্ট খুলনার ডুমুরিয়া থেকে ঢাকায় আসে  জঙ্গি সাইফুল ইসলাম। ঢাকায় এসে বিভিন্নস্থানে থাকার পর সর্বশেষ  হোটেল ওলিও’র পুরনো ভবনে অবস্থান নেয় সে।

মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ মূলত ভবনটিতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেয়। সিটিটিসির সোয়াট ও বোম্ব ডিস্পোজাল টিমের পাশাপাশি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও হোটেলের আশেপাশে অবস্থান নেয়। হোটেলের পাশের ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ৯ টা ৪৩ মিনিটে প্রথম কয়েকটি গুলির শব্দ পাওয়া যায়। এর এক মিনিট পরই (৯ টা ৪৪ মিনিটে)  বিকট শব্দে হোটেলের পূর্ব পাশের অংশ ধসে পড়ে। আশেপাশের লোকজন দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। এসময় পুরো ভবন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। বোমার স্প্লিন্টারে পাশের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  প্রায় আধাঘন্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরবর্তী সময়ে সোয়াট ও বোম্ব ডিস্পোজাল টিম কয়েক দফায় ফায়ার সার্ভিসের রেকারে উঠে ভবনটি বাইরে থেকে দেখে। এরপর ভেতরেও তারা প্রবেশ করে। ৩০১ নম্বর কক্ষের বারান্দায় জঙ্গি সাইফুলের লাশ পড়ে থাকে। বিকাল সোয়া ৪ টার দিকে কলাবাগান থানা পুলিশ জঙ্গির লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

<>

/এআরআর/এমএনএইচ/