সর্বশেষ গত বুধবার (৪ অক্টোবর) রাতে ফকিরাপুলের কোমর গলির হাশেম আলীর বাড়ি থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জালিয়াত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের শ্যুটিং ইনসিডেন্ট টিম। এই পাঁচ জালিয়াত হলো আব্দুল বারিক, মোহাম্মদ আলী, সাব্বির হোসেন, শহীদুল হক নিজাম ও মোর্শেদ ভূঁইয়া। এর আগেও দুই দফায় আরও ৭-৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার, বিভিন্ন থানার ওসির সিলসহ মোট ৫৭৭টি নকল সিল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের এক হাজার ৮৫০টি জাল সার্টিফিকেট, দু’টি কম্পিউটার ও একটি প্রিন্টার উদ্ধার করা হয় তাদের কাছ থেকে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় গোয়েন্দা পুলিশের ইনস্পেক্টর রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় একদিনের রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শনিবার (৭ অক্টোবর) প্রতারকদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরে আবারও তাদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জালিয়াত চক্রটি ট্রাভেল এজেন্সিকেন্দ্রিক। কিন্তু নানা কারণে সেই এজেন্সিগুলোয় হানা দেওয়া যাচ্ছে না। কিছু এজেন্সিকে তালিকায় রেখে নজরদারি করা হচ্ছে। কারা এই জালিয়াত চক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরই সেসব এজেন্সিতে তারা অভিযান চালাতে চান। যেন কেউ পরে প্রশ্ন তুলতে না পারে। এছাড়া দাগি সন্ত্রাসী-জঙ্গিরা এসব জালিয়াত চক্রের আশ্রয় নিয়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। পালানোর পর জানা যায়, তারা কিভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।’ ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ডিজিটাল ক্রিমিনাল ডাটাবেজ হওয়ায় যেকোনও মামলার আসামি হলেই সেটা ধরা পড়ে যাবে তদন্তে। ফলে অনেকেই পুলিশি ঝামেলা এড়াতে এসব জালিয়াত চক্রের দ্বারস্থ হয়। অনেক মানবপাচারকারীও এসব ট্রাভেল এজেন্সি ও জালিয়াত চক্রের আশ্রয় নিয়ে থাকে।’
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, পুলিশ কর্মকর্তা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিল জালিয়াতির বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না। এমনটি ঘটতে থাকলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ ও পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে থাকবে। বিশেষ করে এসব জালিয়াত চক্রের কারণে অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে।’