আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্য সচিব, বাণিজ্য সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ও পুলিশের মহা-পরিদর্শককে (আইজিপি) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
পরে এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের যেসব চ্যানেল বিদেশে সম্প্রচার করা হয়, সেসব চ্যানেলে চব্বিশ ঘণ্টা নিউজ ও অনুষ্ঠান ছাড়া কোনও বিজ্ঞাপন সম্প্রচার করা হয় না। অথচ বাংলাদেশে সম্প্রচারিত সব বিদেশি চ্যানেলে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞাপন সম্প্রচার করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘‘এটা ‘ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর লঙ্ঘন। এ কারণেই আদালত রুল জারি করেছেন।’’
গত ২০ সেপ্টেম্বর জনস্বার্থে রিটটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া।
রিটে ‘ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর ১৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া।
সম্প্রচার বা সঞ্চালনের ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ সংক্রান্ত আইনটির ১৯ ধারা বলা হয়েছে, ‘সেবা প্রদানকারী ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যেসব অনুষ্ঠান সম্প্রচার বা সঞ্চালন করিতে পারবে না, তা হলো: (১৩) বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনও চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন।’
আইনজীবী এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই আইন অনুসারে পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে তথ্য মন্ত্রণালয় একটি বিধিমালা তৈরি করে। সেখানেও বিধি-নিষেধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি বিদেশি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে অহরহ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘কিছু কোম্পানিও বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করছে। দেশি চ্যানেলে ভ্যাট/ট্যাক্স দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার হলেও বিদেশি চ্যানেলে সেটি হচ্ছে না।’ এতে দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন এই আইনজীবী।