ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ‘এখানে যে চিকিৎসকরা কাজ করছেন, তাদের এভাবে যদি হেনস্তা করা হয়, তাহলে তাদের ভেতরে তো উত্তেজনা কাজ করবেই। তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে জরুরি বিভাগের সেবাকাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও আমাদের ইন্টারনাল চিকিৎসা চালু ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় ৫ সদ্যসের তদন্ত কমিটির গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’
এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী, রোগীর স্বজন ও ঢামেক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে নওশাদ নামে এক রোগী সিসিইউ-২-এ মারা গেলে স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে স্বজনদের সঙ্গে আনসার সদস্য ও ডাক্তারদের হাতাহাতি হয়। এতে ডাক্তার ও আনসার সদস্যরা আহত হন। পরে আনসার সদস্য ও হাসপাতাল স্টাফরা মিলে স্বজনদের তিন জনকে আটক করেন। তাদের আটকে রেখে মারধরও করা হয়। এরমধ্যে দুই জনকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তৃতীয় জনের অবস্থা ভালো না থাকায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আটক দুই জন হলেন মাকসুদ ও রিয়াদ। তবে তৃতীয় জনের নাম জানা যায়নি।
হাতাহাতির ঘটনার পর দুপুর ২টা ১০ মিনিট থেকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। এ সময় রোগীরা দুর্ভোগে পড়েন। চিকিৎসাসেবা না নিয়েই তাদের ফিরে যেতে হয়েছে অন্য হাসপাতালে। আবার কারও কারও অবস্থা গুরুতর হওয়ায় অন্য হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দিলে তাদের আবারও ঢামেকে এসে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
টানা তিন ঘণ্টা জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকার পর বিকেল ৫টায় আবার চালুর ঘোষণা দিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি মোটেও তুচ্ছ নয়। রোগীর স্বজনরা যেভাবে আমাদের ডাক্তার, আনসারদের ওপর আক্রমণ করেছে, তা বলার মতো নয়। বেশ কয়েকজন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। একজন চিকিৎসকের হাত ভেঙে গেছে।’
মারা যাওয়া রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হয়ে জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ‘রোগী গতকাল রাতে আমাদের এখানে এসে ভর্তি হয়েছেন। তার তিন দিন আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এই তিন দিন তিনি বাইরে ছিলেন। এরপর এখানে এসেছেন। তার অবস্থা মুমূর্ষু ছিল। তাকে সারা রাত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আজও দেওয়া হয়েছে। আমাদের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর নিজে রোগীকে দেখেছেন ও স্বজনদের জানিয়েছেন যে তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল। রোগীর জীবন রক্ষায় আমাদের ডাক্তাররা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। আল্টিমেটলি শেষ রক্ষা হয়নি।’
ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তি বাড়াতে হবে উল্লেখ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে এম নাসির উদ্দিন বলেন, এখানে আমাদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট। আমাদের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিভাবে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, এ ব্যাপারে আলোচনা করেছি। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে ভবিষ্যতে তারা চিকিৎসা দিতে আসতে ভয় পাবেন। আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। অবশ্যই জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
যেকোনও ইস্যুতে জরুরি বিভাগ বন্ধ রেখে আন্দোলন করা বা আলোচনা করা কতটুকু যৌক্তিক এবং তিন ঘণ্টা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকার দায় কে নেবে, এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক।