ডেমরায় হচ্ছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পুলিশ ব্যারাক

 

হেল্প ডেস্ক ৯৯৯-এর ব্যারাক নির্মাণের নকশারাজধানীর ডেমরায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর বহুতলা ভবন ও পুলিশ ব্যারক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। এ জন্য ওই এলাকায় তিন একর জমিও  নির্বাচন করা হয়েছে। সেখানে একটি বিশতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য থাকবে আলাদা দু’টি ব্যারাক। সেখানে কল সেন্টারে কর্মরত কর্মীরা থাকবেন। এছাড়া কর্মকর্তাদের জন্য কোয়ার্টার নির্মাণেরও কথা রয়েছে। জরুরি সেবা আরও পরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে করার জন্য এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকার আন্তরিকভাবে জরুরি সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে চায়। নাগরিকদের সহজে জরুরি সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা দিতে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সবুজ সংকেত পাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ডেমরায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পুলিশ ব্যারাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।’

৯৯৯-এ সেবা দিচ্ছেন একজন কল টেকার

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘‘বর্তমানে রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এর কার্যক্রম চলছে। সেখানে একটি  ফ্লোরে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে শিগগিরই আরও একটি ফ্লোরে এই কার্যক্রম চালু করা হবে। বর্তমানে ৩৩টি কলার টেকার রয়েছে। এটা একশতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। মানুষের ব্যাপক সাড়া পড়ায় পুলিশ আরও আন্তরিক হয়ে সেবা দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই কার্যক্রমের জন্য আলাদা ভবন ও ব্যারাক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নকশা করা হয়েছে। জায়গা বরাদ্দের জন্য কাজ চলছে। শিগগিরই স্থপতি দিয়ে ভবনের নকশা করা হবে।’’

জরুরি জাতীয় সেবা ৯৯৯-এর কার্যালয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সুপার (এসপি) তবারক উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জরুরি জাতীয় সেবা ৯৯৯-এর কার্যক্রম থেকে পুলিশি সেবা দিতে যা যা করা দরকার, সরকার তা করছে। তাই ভবন নির্মাণের এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছ। কাজ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।’ 

মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ‘৯৯৯’-এর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পুলিশি সেবা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কল সেন্টারের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার থেকে বুধবার দুপুর ২টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৬০৪টি কল পেয়েছেন তারা। এর মধ্যে প্রথম দিন (১২ ডিসেম্বর) আসে ২২ হাজার ৫০২টি কল। দ্বিতীয় দিন বুধবার দুপুর ২টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ১৩ হাজার ১০২টি। প্রথম দিন সেবা নিয়েছেন ৩৩ জন। দ্বিতীয় দিন বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত সেবা নিয়েছেন ২৩ জন।