বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আদাবর এলাকার নবোদয় হাউজিং থেকে এলএলবি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাহারিয়া সীমান্তকে (১৯) অপহরণ করা হয়। এরপর তার বাবার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় অপহরণকারীরা। প্রথম দুই দফায় ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেন সীমান্তের বাবা হাজী মো. শরীফুল আলম। পরবর্তী সময়ে আরও ৭০ হাজার টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে র্যাব-২-এ ছেলের অপহরণ হওয়ার বিষয়টি জানান শরীফুল আলম। পরবর্তী সময়ে রাত পৌনে ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে অক্ষত অবস্থায় সীমান্তকে উদ্ধার করে র্যাব। একইসঙ্গে আটক করা হয় চার অপহরণকারীকে। তারা হলো মো. রিয়াজ (২০), জাহিদ (২০), আব্দুল করিম হাওলাদার (২৭) ও ইউসুফ হাওলাদার (২২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো মুক্তিপণের টাকা, একটি প্রাইভেটকার ও সাতটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয।
তবে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় মো. জামাল (৪০), সানি ওরফে বিয়ার সানিসহ (২৬) অন্তত চার অপহরণকারী। তাদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান র্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. ফিরোজ কাউছার।
জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী সীমান্ত হাজারীবাগ থেকে আদাবরে তার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার জন্য রওনা হয়েছিল। তখনই তাকে আদাবর নবোদয় হাউজিং, ব্লক-বি’র ৫ নম্বর সড়ক থেকে জোর করে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয় ওই অপহরণকারী চক্র। সীমান্ত যে আদাবর যাবে তা তার বন্ধু ছাড়া কারও জানার কথা নয়। কিন্তু অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা তাকে আগে থেকেই ফলো (নজরদারি) করছিল। ঘটনাস্থল সুবিধাজনক হওয়ায় সেখান থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়।
র্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘অপহরণকারীরা টার্গেট করা ব্যক্তিকে নজরদারিতে রেখে তারপর সুবিধামতো স্থান থেকে তুলে নেয়। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থেকে পড়াশোনার জন্য আসা বিত্তশালী পরিবারের সন্তানদের টার্গেট করে তারা। পরবর্তী সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করা হতো। দীর্ঘদিন ধরেই চক্রটি এ ধরনের কাজ করে আসছে।’
ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিত্তশালী পরিবারের শিক্ষার্থীদের কেন টার্গেট করা হয়, এমন প্রশ্নে র্যাব কর্মকর্তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এই চক্রটি দ্রুত সময়ে মুক্তিপণ আদায়ের কৌশল বেছে নিয়েছিল। তারা অপহরণের পর অনেক বেশি টাকা মুক্তিপণ চাইতো না। ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে রফাদফা করতো। আর সেই টাকা নিতো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে, বিশেষ করে বিকাশে।
র্যাব কর্মকর্তারা আরও জানান, ঢাকার বাইরে থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অপহরণের সুবিধা হলো— অভিভাবকরা সন্তান হারানোর ভয়ে দ্রুত সময়ে দাবি করা টাকা দিয়ে দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছেও সাধারণত তারা প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগ করেন না। কারণ এই চক্রের চাওয়া টাকার পরিমাণ থাকে তাদের সাধ্যের মধ্যে। এই সুবিধাকে পুঁজি করেছিল অপহরণকারী চক্র।
জানা যায়, অপহরণকারীরা প্রথমে শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে তার সম্পর্কে খোঁজ নিতো। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো হলে সেই শিক্ষার্থীর গতিবিধি নজরদারিতে রেখে সুবিধামতো অপহরণ করতো এই চক্রের সদস্যরা।
এ পর্যন্ত কতজন শিক্ষার্থীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে র্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বলেছেন, ‘এর সঠিক পরিসংখ্যান এখনও জানা সম্ভব হয়নি। আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’