এদিকে, বিএনপি বলেছে, ঢাকার বাইরের জেলা ও উপজেলাগুলোতে তাদের সাধারণ নেতাকর্মীদের বদলে নেতৃস্থানীয়দের গ্রেফতার করা হয়েছে, যাতে গ্রেফতারের পরিসংখ্যান তুলনামূলক কম থাকে। একইসঙ্গে কর্মীদের কেউ যাতে সংগঠিত হতে না পারে।
পুলিশ সদর দফতর বলছে, গণহারে কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত সাত দিনে গ্রেফতারের পরিসংখ্যান সাধারণ সময়ের চেয়ে প্রতিদিন মাত্র ৫৯ জন করে বেশি। পুলিশ সদর দফতরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শতকের হিসেবে এটি মাত্র দুই শতাংশ বেশি। ডিএমপির পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা কোনোভাবে তিনশ’র বেশি নয়।
পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘মূলত তদন্তাধীন মামলা, বিচারাধীন মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও সন্দেজভাজন মামলার আসামিদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করছি। গণগ্রেফতার হচ্ছে না। গ্রেফতার করা বাংলাদেশ পুলিশের রুটিনওয়ার্ক। যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেই অনুযায়ী অল্পসংখ্যক আসামি গ্রেফতার হচ্ছে।’
গত সাত দিনের গ্রেফতারের সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলনে, ‘গত বছর বা সারাবছরে গড়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ গ্রেফতার হয়, গত সাত দিনে গড়ে প্রতিদিনে তার চেয়ে ৫৯ জন বেশি গ্রেফতার হয়েছে।’
পুলিশ সদর দফতরের সূত্র বলছে, গড়ে প্রতিদিন সারাদেশে আড়াই হাজার ব্যক্তি গ্রেফতার হয়। এর মধ্যে খুনসহ বিভিন্ন মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত ও নতুন-পুরাতন মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। সেই হিসাবে ৮ ফেব্রুয়ারির রায়কে কেন্দ্র করে বেশি লোকজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। শতাংশের হিসেবে মাত্র ২ শতাংশ বেশি।
বিভিন্ন জেলা থেকে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য বলছে, ঢাকা বিভাগের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ৬ জন, মানিকগঞ্জে ১২, রাজবাড়ীতে ৩৫, নরসিংদীতে ১৮, মুন্সীগঞ্জে ১ ও গাজীপুরে ১০ জন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীসহ মোট ৭৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহে ৭৯ জন, সাতক্ষীরায় ৬৮ ও মেহেরপুরে ১২ জনসহ মোট ১৫৯ জন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় ১৬২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৪ জনসহ মোট ২১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রংপুর বিভাগের রংপুরে ১৪, নীলফামারীতে ২৪ ও কুড়িগ্রামে ৫৬ জনসহ মোট ৯৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল বিভাগের বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২ ও পিরোজপুরে ৪ জনসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের সিরাজগঞ্জে ১২, বগুড়ায় ৪৯, পঞ্চগড়ে ১৪ এবং জয়পুরহাটে ৩৮ জনসহ মোট ১১৩ জন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহে ১৪, জামালপুরে ৬৫, নেত্রকোনায় ১৪ জনসহ মোট ৯৩ জন বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক হিসাবে দেখা গেছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বুধবার (৭ ফ্রেব্রুয়ারি) পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মোট ১,১৯৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপি অ্যাক্টে ২১০ জনকে, নিয়মিত মামলায় ৫২৯ জন, পুরাতন মামলায় ৩৮৪ জন ও বিএনপি-জামায়াতের ৭৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই হিসাবে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের মামলায় গ্রেফতারের পরিসংখ্যান রয়েছে। বিএনপি-জাময়াতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের পর মামলা হয়ে গেলে তাদের হিসাব নিয়মিত মামলায় চলে যায়।
ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালত সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর ৪৯ থানা এলাকা থেকে বিএনপি-জামায়াতের ১২৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত জামিন না দিয়ে বেশিরভাগ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।