দুই ধারাতেই অপরাধ প্রমাণ হলেও খালেদা জিয়ার শাস্তি এক ধারায়

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দুই ধারায় [৫ (১) ও ৫ (২)] করা অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কেবল দণ্ডবিধিতে শাস্তি দিয়েছেন আদালত। সোমবার রায় এর অনুলিপি প্রকাশ হওয়ার পর সেখানে এ বিষয়ে বিচারকের পর্যবেক্ষণ থেকে বিষয়টি জানা যায়। অর্থ আত্মসাতের মামলায় ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান গত ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে খালেদা জিয়া (ফাইল ছবি)দুই ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলেও একটি ধারায় দণ্ড প্রদান সম্পর্কে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে খালেদা জিয়া ও ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী মিনস রিয়ো (Mens reo) নিয়ে সরকারি এতিম তহবিলের টাকা দুই ভাগে ভাগ করে দু’টি ট্রাস্টের অনুকূলে হস্তান্তর করেন। যার মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট অন্যতম। ওই ট্রাস্টে ১৯৯৩ সালের ১৩ নভেম্বর ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা স্থানান্তরের পর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর সেখানে জমা হয়। আসামি তারেক রহমান ও মমিনুর রহমান ট্রাস্টনামীয় এসটিডি ৭নং হিসেব থেকে টাকা উত্তোলন করে প্রথমে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় ২.৭৯ একর জমি কেনেন। অবশিষ্ট টাকা প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখায় স্থানান্তর করেন।

পরবর্তীতে কাজী সালিমুল হক কামাল ও গিয়াস উদ্দিনের হাত হয়ে আসামি শরফুদ্দিনের হাতে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা চলে যায় এবং তা আত্মসাৎ করা হয়। এগুলো সবই আসামিদের মিনস রিয়ো ইঙ্গিত করে। ফলে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (১) ধারায় বর্ণিত ক্রিমিনাল মিস কনডাক্ট এর উপাদান যেমন এই মামলায় উপস্থিত আছে, ঠিক তেমনি আসামিদের মিনস রিয়োসহ রংফুল গেইনের উদ্দেশ্য বর্ণিত পরিমান টাকা বিভিন্ন পন্থায় রূপান্তর করে আত্মসাৎ করেছেন মর্মেও আদালত মনে করেন। তাই এই ধারাতেই খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়া এ মামলায় আত্মপক্ষ শুনানিতে বক্তব্য প্রদানের সময় নিজ জবানিতে স্বীকার করেছেন যে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ফলে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় তাকে শাস্তি দিতে কোনও বাধা নেই। তবে এই ধারায় খালেদা জিয়াকে কোনও সাজা দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডদেশে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানা করা হয়।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ দণ্ডিত অন্য চার আসামি হলো- কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। দণ্ডিতদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক রয়েছেন। 

আরও পড়ুন: যেভাবে এতিমের টাকা চলে যায় তারেক রহমানের হাতে